
জীবনপথের চড়াই-উতরাইয়ে বহু মানুষের সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়। কেউ হন কাছের মানুষ, আবার কেউ হয়ে ওঠেন পরম বন্ধু। কিন্তু সেই বন্ধুই যদি আচমকা ভোল বদলে চরম শত্রুর মতো আচরণ শুরু করে? যার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যেত, সেই যদি পেছন থেকে ছুরি মারে, তখন ঠিক কী করা উচিত? এই কঠিন পরিস্থিতিতে মনের শান্তি বজায় রেখে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন, তারই পথ দেখালেন বৃন্দাবনের জনপ্রিয় সন্ত ও আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী প্রেমানন্দ মহারাজ।
নিজের প্রবচনে প্রায়শই মানুষের বাস্তব জীবনের নানা জটিল সমস্যার সহজ সমাধান দিয়ে থাকেন মহারাজ। সম্প্রতি এমনই এক ভক্তের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কাছের বন্ধু শত্রু হয়ে উঠলে নিজেকে কীভাবে সামলানো উচিত।
প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, যখন কোনও প্রিয় বন্ধু হঠাৎ করে আপনার ক্ষতি করতে উদ্যত হয় বা শত্রুর মতো ব্যবহার করে, তখন প্রথম কাজ হল তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করা। মহারাজ বলেন, “যদি কেউ আপনার সঙ্গে শত্রুতা করে, তবে তার বদলে আপনিও তার সঙ্গে শত্রুতা করতে যাবেন না। হিংসার বদলে হিংসা কখনও শান্তি আনে না। বরং বুদ্ধিমানের কাজ হল, সেই ব্যক্তির থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নেওয়া।”
মহারাজজী আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক দিক বুঝিয়ে বলেন যে, প্রতিটি মানুষের কর্মই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে। যদি কোনও বন্ধু আপনার ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে সে আসলে নিজের কর্মফল খারাপ করছে। আপনার কাজ হল শান্ত থাকা। ভগবানের ওপর এবং নিজের সৎ কর্মের ওপর বিশ্বাস রাখা। মহারাজ মনে করিয়ে দেন, কেউ যদি অন্যায় করে, তবে প্রকৃতির নিয়মেই সে তার শাস্তি পাবে, তার জন্য আপনাকে হাত নোংরা করতে হবে না।
অনেক সময় বন্ধুর এমন আচরণে মানুষ ক্ষোভে ও দুঃখে ভেঙে পড়ে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাবে। কিন্তু প্রেমানন্দ মহারাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে নীরব থাকা এবং নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, “উত্তেজিত হয়ে কোনো কটু কথা বলবেন না বা পাল্টা আক্রমণ করবেন না। আপনার নীরবতাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় জবাব।”
প্রতিশোধের আগুনে জ্বললে নিজেরই মানসিক ক্ষতি হয়। তাই মহারাজজীর পরামর্শ— যে বন্ধু শত্রুতা করছে, তাকে তার মতো ছেড়ে দিন। মন খারাপ না করে, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে এগিয়ে যান এবং নিজের মনকে ঈশ্বরের চরণে সঁপে দিন। কারণ, পরমেশ্বর সব দেখছেন এবং তিনিই শেষ বিচার করবেন।