
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী দেবাধিদেব মহাদেবের পরম প্রিয় মাস হল শ্রাবণ। আর এই পূর্ণ মাসের প্রতিটি সোমবারের গুরুত্ব অপার। শাস্ত্রবিদ ও পুরোহিতদের মতে, শ্রাবণ মাসের সোমবারে ভোলানাথের কৃপা পেতে সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে সাধক—সকলেই বিশেষ পুজো ও আরাধনায় ব্রতী হন। তবে সাধারণ দিনের পুজোর সঙ্গে রাতের বিশেষ মহাদেব পুজোর এক অনন্য মাহাত্ম্য রয়েছে। জ্যোতিষ ও তন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারের ঠিক মধ্যরাতে অর্থাৎ রাত ১২টার আগের মুহূর্তটি ভোলানাথের আশীর্বাদ লাভের জন্য অত্যন্ত অলৌকিক এবং ফলদায়ক।
কেন রাত ১২টার আগের সময়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণ বিশেষ করে মধ্যরাতকে বলা হয় ‘নিশীথ কাল’। মহাদেবের আরাধনায় নিশীথ কালের পুজো অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ সময়ে দেবাদিদেব শিব তাঁর ভক্তদের আকুল প্রার্থনা সবচেয়ে দ্রুত শ্রবণ করেন এবং গৃহস্থে বিরাজমান সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর করে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার করেন। তাই শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারের নিশীথ কালকে জীবনের দুঃখ-কষ্ট ও অর্থকষ্ট দূর করার মহা-উপায় বলে মনে করা হয়।
শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারের রাতে গৃহস্থের ঠাকুরঘরে বা পূজামণ্ডপে মহাদেবের বিশেষ কৃপা পেতে শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের কাজগুলি করা অত্যন্ত শুভ:
রাত ১২টার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে স্নান সেরে পরিষ্কার বা কাচা পোশাক পরুন। ঠাকুরঘর পরিষ্কার করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন।
ঠিক রাত ১২টার কয়েক মিনিট আগে ঠাকুরের আসনে বা শিবলিঙ্গের সামনে দেশি ঘি-এর একটি প্রদীপ প্রজ্বলন করুন। সঙ্গে সামান্য কর্পূর ও ধূপ জ্বালিয়ে ঘরের বাতাস পবিত্র করুন।
যদি ঘরে শিবলিঙ্গ বা শিলা থাকে, তবে রাত ১২টা বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে দুধ, গঙ্গাজল, মধু এবং ডাবের জল দিয়ে মহাদেবকে অভিষেক করান।
মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় ত্রিপত্র বেলপাতা (যা ছেঁড়া বা কাটা নয়) এবং বেলপাতায় চন্দনের ফোঁটা দিয়ে অর্পণ করুন। সঙ্গে নীল বা সাদা আকন্দ ফুল এবং ধুতরো নিবেদন করুন।
রাত ১২টার মাহেন্দ্রক্ষণে মনকে শান্ত রেখে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ (Om Namah Shivaya) মন্ত্র অথবা মহাশত্রু ও ব্যাধি বিনাশের জন্য ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ অন্তত ১০৮ বার জপ করুন।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, ভক্তরা যদি নি নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই নিশীথ কালে শিবের আরাধনা শেষ করে হাত জোড় করে পরিবারের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন, তবে ভোলানাথ ভক্তকে খালি হাতে ফেরান না। ঘরে জমে থাকা সমস্ত নেতিবাচক প্রভাব কেটে গিয়ে সুখ ও সমৃদ্ধি ফিরতে বাধ্য।
শ্রাবণ মাসের এই পুণ্য লগ্নে মহাদেবের আরাধনা কেবল এক ধর্মীয় নিয়ম নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক অমূল্য সুযোগ বলে মনে করেন আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদরা।