Bageswar Baba: মন্ত্র পড়ে ক্যান্সার সারিয়ে দেওয়ার কথা বলেন, এক রাতের ঘটনাই মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, কে এই বাগেশ্বর বাবা?

বাগেশ্বর ধামের ওয়েবসাইটে লেখা আছে একটি কাহিনী। ধীরেন্দ্র তখন কিশোর। এক রাতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কোনও রকমে বাড়ির খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁরা এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে, বাড়ির বাইরে গিয়ে খাবার আনার উপায়ও ছিল না। প্রবল বৃষ্টিতে সেদিন ঘরে খাওয়ার মতোও কিছুই ছিল না।

Bageswar Baba: মন্ত্র পড়ে ক্যান্সার সারিয়ে দেওয়ার কথা বলেন, এক রাতের ঘটনাই মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, কে এই বাগেশ্বর বাবা?
বাগেশ্বর বাবাImage Credit source: TV9 Bangla

Sep 07, 2026 | 8:05 PM

মুখ দেখেই বলে দিতে পারেন ভূত-ভবিষ্যৎ। ভক্তদের দেওয়া খাম না খুলেই বলে দিতে পারেন তাঁদের পরিচয়। তাঁর আশীর্বাদে নাকি সেরে যায় দুরারোগ্য ব্যাধি পর্যন্ত। সোশ্যাল মিডিয়া খুললে বাগেশ্বর বাবা-র এমন অনেক কীর্তিই চোখে পড়ে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের দুর্গা পূজা নিয়ে মন্তব্য় করে শিরোনামে এসেছেন সেই বাগেশ্বর বাবা। বলেছেন, দুর্গা পূজা তথা নবরাত্রির সময় আমিষ খাবার রান্না করা যাবে না। কে এই বাগেশ্বর বাবা? কীভাবে এক সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়ে উঠলেন সাধু?

দারিদ্র্যেই ছেলেবেলা কেটেছে ধীরেন্দ্রর

বাগেশ্বর বাবা নামে বেশি পরিচিতি হলেও তাঁর আসল নাম ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। মধ্য প্রদেশের ছাতারপুরের গাদা গ্রামে জন্ম ধীরেন্দ্রর। বাবা রাম কৃপাল গর্গ ও মা সরোজ গর্গের দুই সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ্য়তর তিনি। বাবা রাম কৃপাল ছিলেন পেশায় পুরোহিত। দারিদ্য়েই ছেলেবেলা কেটেছে তাঁর। থাকতেন কুঁড়েঘরে। শোনা যায়, গ্রামের মানুষকে নানা কাহিনী শোনানোর অভ্যাস তাঁর ছিল ছোটবেলা থেকেই। ছাতারপুরের একটি গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি।

একটি ঘটনাই নাকি জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল

বাগেশ্বর ধামের ওয়েবসাইটে লেখা আছে একটি কাহিনী। ধীরেন্দ্র তখন কিশোর। এক রাতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কোনও রকমে বাড়ির খাটের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁরা এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে, বাড়ির বাইরে গিয়ে খাবার আনার উপায়ও ছিল না। প্রবল বৃষ্টিতে সেদিন ঘরে খাওয়ার মতোও কিছুই ছিল না। খিদের জ্বালায় তাঁরা কাঁদতে থাকেন। এতে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ধীরেন্দ্র। পরের দিন তিনি তাঁর দাদুর কাছে ছুটে যান। তাঁর দাদু বাগেশ্বর ধাম মন্দিরে থাকতেন।

ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী তাঁর দাদুর ওপর রাগ করে তাঁকে বললেন যে, তাঁর এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁদের সাহায্য করছেন না। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী রাগের সঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, যখন তিনি জানেন যে ঘরে খাওয়ার মতো কিছুই নেই এবং তাঁরা সবাই ক্ষুধার্ত, তখনও তিনি কেন তাঁদের সাহায্য করছেন না। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী তাঁকে বললেন, তাঁরা তাঁর পরিবারের সদস্য এবং এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁর তাঁদের সাহায্য করা উচিত।

ধীরেন্দ্র প্রশ্ন করেন, এত অলৌকিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁদের পরিবারের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারছেন না তাঁর দাদু? কেন দিতে পারছেন না বিপুল টাকার সন্ধান! এরপর দাদুর কথা মতো স্নান করে গিয়ে পুজোয় বসেন তিনি। তখনই নাকি বালাজির সঙ্গে তাঁর যোগ তৈরি হয়। সেই থেকেই নাকি আধ্যাত্মিক পথে চলা শুরু করেন বাগেশ্বর।

বিনামূল্যে খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন ধীরেন্দ্র

বর্তমানে বাগেশ্বর ধাম চালান এই ধীরেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আধ্যাত্মিক কথা প্রচার করেন। জানা যায়, বেশ কিছু সামাজিক কাজ করেন তিনি। বাগেশ্বর ধামের তরফে গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। নিখরচায় বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ছাতারপুরে ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য একটি হাসপাতাল তৈরি করেছেন বাগেশ্বর বাবা। ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই হাসপাতালের শিলান্যাস করেন। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।

একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন বাগেশ্বর

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে তিনি দাবি করেছেন, নবরাত্রি তথা দুর্গা পূজার সময় আমিষ খাবার রান্না করা বা খাওয়া উচিৎ নয়। তাঁর এই মন্তব্যে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, “বাঙালি কী খাবে, সেটা কোনও সাধু ঠিক করে দেবেন না।”

মহারাষ্ট্রের অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূল সমীতি বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ তোলে। খামের কাগজ দেখে ভূত-ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার প্রক্রিয়া অবৈজ্ঞানিক বলে অভিযোগ তোলে ওই সংগঠন।

ক্যান্সার নিরাময়ে ওষুধ নয় আশীর্বাদ দেওয়ার কথা বলে থাকেন বাগেশ্বর বাবা। অসুখ সারাতে বিশেষ ভস্ম দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর এই ধরনের বক্তব্যেও বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us