
নয়াদিল্লি: ভারতে ডিজিটাল জগতে এক বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কারণ, ডেটার গোপনীয়তা এবং বিদেশি সার্ভারের উপর নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৮০ কোটিরও বেশি নাগরিক দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করায়, সরকার এবং স্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি দেশীয় সমাধানের উপর জোর দিচ্ছে। এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ এবং জটিল আর্থিক কেলেঙ্কারির মতো ডিজিটাল বিপদগুলি অনেক অসচেতন ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার এই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই অনুবাদিনী এআই ভারতীয় জনগণের জন্য একগুচ্ছ নতুন টুল চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত সংবাদিনী মেসেঞ্জার এবং দেশি এআই জেন-জি কিবোর্ড। ডেভেলপারদের দাবি, এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি একটি “বিশ্বস্ত, সার্বভৌম ডিজিটাল ইকোসিস্টেম” তৈরির জন্য বানানো হয়েছে, যা ভারতীয় জনগণের নির্দিষ্ট ভাষাগত চাহিদা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করবে। এটি প্রত্যেক নাগরিকের হাতের মুঠোয় “বিদেশি সে দেশি” অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার একটি সাহসী প্রচেষ্টা।
ডিজিটাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে একটি নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা-
বহুল আলোচিত সংবাদিনী অ্যাপটিকে প্রচলিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল ডাইনামিক চ্যাট আইডি-র ব্যবহার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অপরিচিতদের কাছে নিজেদের আসল মোবাইল নম্বর না দিয়েই কথা বলতে কিংবা উন্নতমানের ভিডিয়ো কল করতে পারেন। এমন একটি দেশে গোপনীয়তার ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হতে পারে, যেখানে ফোন নম্বর প্রায়শই টেলিমার্কেটার এবং প্রতারকদের কাছে ফাঁস হয়ে যায়।
এই প্ল্যাটফর্মে একটি ‘রিকোয়েস্ট মডিউল’-ও রয়েছে। যেখানে আপনাকে মেসেজ করার আগে অবশ্যই আপনার অনুমতি নিতে হবে অপরিচিতদের। এটি বর্তমানে অধিকাংশ ভারতীয় ব্যবহারকারীকে জর্জরিত করা অবিরাম স্প্যাম কমাতে সাহায্য করে। যারা তাদের পুরোনো কথোপকথন হারিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য অ্যাপটিতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ ইম্পোর্ট ফিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে চ্যাট হিস্ট্রি এবং মিডিয়া নিরাপদে স্থানান্তর করা যায়।
প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য-
এখানে নিরাপত্তা শুধু এনক্রিপশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাপটি সিম ও ডিভাইস বাইন্ডিং ব্যবহার করে এটা নিশ্চিত করে যে, শুধুমাত্র প্রকৃত মালিকই একটি অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করতে পারবেন। যদি কেউ সিম বদলানোর কিংবা খুলে ফেলার চেষ্টা করে, সিস্টেমটি তা শনাক্ত করে একটি সতর্কবার্তা পাঠায়। এটি বিশেষভাবে অ্যাকাউন্ট হাইজ্যাকিং প্রতিরোধ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা আমাদের মতো মোবাইল-ফার্স্ট অর্থনীতিতে একটি সাধারণ সমস্যা।
সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য বিশেষ মডিউলও রয়েছে। যেমন, সেফটি অ্যান্ড এসওএস ফিচারটি তাৎক্ষণিক জরুরি সতর্কতার জন্য ‘ওয়ান-ট্যাপ এসওএস’ সুবিধা দেয়। ডেভেলপাররা কৃষকদের জন্য মান্ডির দাম দেখার এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বয়স্কদের যত্ন বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বিভাগও যুক্ত করেছেন। এটিকে একটি সোশ্যাল অ্যাপ এবং একটি ইউটিলিটি টুলকিটের মিশ্রণ বলে মনে হয়।
মাতৃভাষায় টাইপ করা-
দেশি এআই জেন-জি কিবোর্ডটি এই ডিজিটাল অগ্রযাত্রার দ্বিতীয় অংশ। এতে ২২টি ভারতীয় ভাষা এবং ৭০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা রয়েছে। যেখানে বেশিরভাগ কিবোর্ড আঞ্চলিক লিপি নিয়ে হিমশিম খায়, সেখানে এটিতে দেবনাগরী, বাংলা, অলচিকি এবং এমনকি সংস্কৃতের জন্যও লেআউট রয়েছে। এটি পূর্বাভাসের জন্য অন-ডিভাইস প্রসেসিং ব্যবহার করে, যার মানে আপনার টাইপিং ডেটা কোনও ক্লাউড সার্ভারে না গিয়ে আপনার ফোনেই থেকে যায়।
তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি মজার সংযোজন হল ‘জেন-জি কী’, যা রিজ এবং ডেলুলুর মতো জনপ্রিয় আঞ্চলিক চলিত ভাষার দ্রুত ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এছাড়াও, কিবোর্ডের ভেতরেই ক্যালকুলেটর এবং কারেন্সি কনভার্টারের মতো বিল্ট-ইন টুল রয়েছে। এর ফলে চ্যাট করার সময় একটি সাধারণ হিসাব করার জন্য ব্যবহারকারীদের একাধিক অ্যাপের মধ্যে বারবার যাওয়া-আসা করতে হয় না।
অ্যাপ্লিকেশন দুটি এখন গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে।