USA: আমেরিকার নাকের ডগায় বসে পর পর তেলের শোধনাগারের আগুন দিচ্ছে ইরানের ‘স্লিপার সেল’?
চিন সফর শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরে দু’বার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে একান্ত বৈঠকেও মুখোমুখি হন দুই শীর্ষনেতা। সেই বৈঠকেই শি জিনপিং প্রশ্ন তোলেন, “চিন ও আমেরিকা যদি থুকিডাইডিস ফাঁদ এড়াতে পারে, তবেই ইতিবাচক কিছু আশা করা সম্ভব।” ট্রাম্প সেই প্রশ্নের উত্তরে কী বলেছেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে দিল্লিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকেও ইরানের প্রতিনিধির মুখে শোনা যায় একই শব্দবন্ধ ‘থুকিডাইডিস ফাঁদ’। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কূটনৈতিক মঞ্চে এই প্রসঙ্গ উঠে আসায় তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Graham Allison প্রথম ‘থুকিডাইডিস ট্র্যাপ’ শব্দবন্ধটি সামনে আনেন। প্রাচীন গ্রীসে স্পার্টা ও এথেন্সের সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, কোনও শক্তিশালী দেশের উত্থানে অন্য শক্তিধর দেশ ভয় পেলে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর মতে, আধুনিক বিশ্বের বহু সংঘাতের পিছনেও কাজ করছে সেই ভয় ও অনিশ্চয়তা।এই প্রেক্ষাপটে চিনের তরফে এই প্রসঙ্গ তোলাকে অনেকেই দেখছেন আমেরিকার উদ্দেশে সতর্কবার্তা হিসেবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ইরান কেন ব্রিকসের মঞ্চে একই প্রসঙ্গ তুলল?
চিন সফর শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরে দু’বার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে একান্ত বৈঠকেও মুখোমুখি হন দুই শীর্ষনেতা। সেই বৈঠকেই শি জিনপিং প্রশ্ন তোলেন, “চিন ও আমেরিকা যদি থুকিডাইডিস ফাঁদ এড়াতে পারে, তবেই ইতিবাচক কিছু আশা করা সম্ভব।” ট্রাম্প সেই প্রশ্নের উত্তরে কী বলেছেন, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে দিল্লিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকেও ইরানের প্রতিনিধির মুখে শোনা যায় একই শব্দবন্ধ ‘থুকিডাইডিস ফাঁদ’। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কূটনৈতিক মঞ্চে এই প্রসঙ্গ উঠে আসায় তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০১৫ সালে মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Graham Allison প্রথম ‘থুকিডাইডিস ট্র্যাপ’ শব্দবন্ধটি সামনে আনেন। প্রাচীন গ্রীসে স্পার্টা ও এথেন্সের সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, কোনও শক্তিশালী দেশের উত্থানে অন্য শক্তিধর দেশ ভয় পেলে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর মতে, আধুনিক বিশ্বের বহু সংঘাতের পিছনেও কাজ করছে সেই ভয় ও অনিশ্চয়তা।এই প্রেক্ষাপটে চিনের তরফে এই প্রসঙ্গ তোলাকে অনেকেই দেখছেন আমেরিকার উদ্দেশে সতর্কবার্তা হিসেবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ইরান কেন ব্রিকসের মঞ্চে একই প্রসঙ্গ তুলল?
এর মধ্যেই আমেরিকায় একের পর এক তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, এর পিছনে থাকতে পারে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। মার্কিন প্রশাসনের একাংশের দাবি, ইরানের গোয়েন্দা ও গুপ্তচর সংস্থাগুলি আমেরিকার মাটিতে ধারাবাহিক নাশকতার সঙ্গে জড়িত।
প্রথমে এই অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে গত মাসের শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পেন্টাগন এবং ইউএস ন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিস। তদন্তের রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পেন্টাগন স্পষ্ট জানায়, তেল শোধনাগারে লাগা সব আগুন দুর্ঘটনা নয়। এক-দুটি ঘটনা বাদ দিলে বাকি ঘটনাগুলি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকার তেল শোধনাগারগুলিতে ধারাবাহিক নাশকতা চলছে এবং তা হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার মাসে আমেরিকার ছ’টি তেল শোধনাগারে আগুন লেগেছে। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি এতটাই বেশি যে এখনও সেখানে তেল শোধনের কাজ শুরু করা যায়নি। গত মার্চে Chevron-এর একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর আগুন লাগে অক্সিন, এভ্রন এবং মিটিসের তেলক্ষেত্রেও। ১১ মে ওকলাহোমায় আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম তেলের ভান্ডারে আগুন লাগে। এখনও সেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ৫ মার্চ টেক্সাসের প্রেট্রোম্যাক্স ওয়েল রিফাইনারিতেও আগুন লাগে। সেখানে ফের উৎপাদন শুরু হলেও আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাইরে থেকে নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শুধু টেক্সাস নয়, অন্য ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেও আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের একাংশের দাবি, এতগুলি ঘটনা একসঙ্গে নিছক দুর্ঘটনা হতে পারে না।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন প্রধান Avril Haines-এর মতে, এই ঘটনাগুলির পিছনে থাকতে পারে ইরানের ‘স্লিপার সেল’। অর্থাৎ, এমন গোপন নেটওয়ার্ক যারা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে থেকে সঠিক সময়ের অপেক্ষা করে। তাঁর দাবি, বহুদিন ধরেই ইরানের একাধিক স্লিপার সেল আমেরিকার ভিতরে সক্রিয় রয়েছে। রেভলিউশনারি গার্ডের নির্দেশ পেয়েই তারা এখন নাশকতায় নেমেছে। পেন্টাগনের হাতে এই সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রথমদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তেল শোধনাগারে নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে একের পর এক ঘটনায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করলে এই ইস্যুতে পরে আর প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।