Bangladesh: রাত ৮টায় দোকান বন্ধ বাংলাদেশে! কেন?

| Edited By: Purvi Ghosh

Aug 20, 2026 | 7:59 PM

বিদ্যুতকেন্দ্র চালাতে ডিজেল লাগে। বাংলাদেশে আবার অধিকাংশ বিদ্যুতই তৈরি হয় প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে। হরমুজে অচলাবস্থা চলতে থাকায় তেল, গ্যাস - কিছুই নেই। ফলে, বিদ্যুত উত্‍পাদনও ঠিকমতো হচ্ছে না। রোজ সারা দেশে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি। তাই বিদ্যুত বাঁচাতে সন্ধেতেই সবকিছুর ঝাঁপ বন্ধ। তবে, ওদেশের সাধারণ মানুষ বলছেন, এমনিতেই তো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। সন্ধের পর অন্ধকারে বেচা আর কেনা, দুটোতেই সমস্যা হচ্ছে। ফলে, আটটায় দোকান বন্ধ হলে কী আর এসে যাবে।

রাজধানী শহর তো দূরের কথা, কোনও দেশের সাধারণ বড়-মাঝারি শহরেও রাত আটটায় দোকান বন্ধ! ভাবতে পারেন? বাংলাদেশে সেটাই হচ্ছে। ঢাকা-সহ দেশের সর্বত্রই রাত আটটার পর দোকান বন্ধ। সাতটার মধ্যে সাইনবোর্ডের আলো যা আছে সব নিভিয়ে ফেলতে হবে। আর আটটায় তালা। বাজার, শপিং মল – কিচ্ছু খুলে রাখা যাবে না। কোথাও যদি কোনও আলোকসজ্জা থাকে তাও সাতটার পর নিভিয়ে ফেলতে হবে। মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান – সবকিছুই রাত ৮টার মধ্যে গুটিয়ে দিতে হবে। ছাড় পাবে শুধু ওষুধের দোকান। তারেক রহমানের প্রশাসন এমনই নির্দেশ জারি করেছে। কেন এই নির্দেশ? উত্তরটা সহজ, ইরানের যুদ্ধ।

বিদ্যুতকেন্দ্র চালাতে ডিজেল লাগে। বাংলাদেশে আবার অধিকাংশ বিদ্যুতই তৈরি হয় প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে। হরমুজে অচলাবস্থা চলতে থাকায় তেল, গ্যাস – কিছুই নেই। ফলে, বিদ্যুত উত্‍পাদনও ঠিকমতো হচ্ছে না। রোজ সারা দেশে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি। তাই বিদ্যুত বাঁচাতে সন্ধেতেই সবকিছুর ঝাঁপ বন্ধ। তবে, ওদেশের সাধারণ মানুষ বলছেন, এমনিতেই তো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। সন্ধের পর অন্ধকারে বেচা আর কেনা, দুটোতেই সমস্যা হচ্ছে। ফলে, আটটায় দোকান বন্ধ হলে কী আর এসে যাবে।

এখন প্রশ্ন হল, হরমুজ নিয়ে ভারতও তো সমস্যায়। আমাদের রোজকার বিদ্যুতের চাহিদা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অনেক বেশি। তাহলে আমরা সামাল দিতে পারলাম। বাংলাদেশ পারছে না কেন? অনেকগুলো কারণ আছে। ভারতে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ দিনের তেল মজুতের ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশে সেটা মাত্র ৩০ দিন। আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একচেটিয়া নির্ভরতা কম। রাশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকে বড় অঙ্কের তেল আমদানি করে আমরা ঝুঁকি ভাগ করে নিয়েছি। বাংলাদেশ সেখানে পুরোপুরি তেলের জন্য আরব দেশগুলির দিকে তাকিয়ে আছে। ভারতে একাধিক বড় বড় রিফাইনারি আছে। বাংলাদেশে সেরকম রিফাইনারি নেই। ফলে, ক্রুড অয়েল নয়। সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল ওদের আমদানি করতে হয়। ভারতে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। বিকল্প শক্তির খোঁজে ঢাকা এখনও সেভাবে এগোতে পারেনি। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ব্যাপারটা তো আছেই। আমাদের রিজার্ভ বহু গুণ বেশি ঢাকার চেয়ে। এমন একটা অবস্থায় দিল্লির কাছে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে ওরা। অসমে নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পাইপলাইনে বাংলাদেশের দিনাজপুরে জ্বালানি যায়। ওই লাইনে বাড়তি ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল চেয়েছে ওরা। অনুরোধ বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের বিরোধিতায় সারাদিন সময় ব্যয় না করে বাংলাদেশ সরকার যদি নিজেদের দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দেয়, তাহলেই বোধহয় ওদের মঙ্গল।

Follow Us
Loading...
Unable to load recommendations.