China: এভারগ্র্যান্ড কাণ্ডে ‘স্পেশাল ১২’! হুই কা ইয়ানের যাবজ্জীবনের পর ফের নজরে ১১ জন

| Edited By: Purvi Ghosh

Aug 24, 2026 | 5:38 PM

‘আকাশে-পাতালে যেখানে পারো, খুঁজে আনো।’ চিনের শীর্ষ মহলের এমনই নির্দেশের পর গত কয়েক মাস ধরে ১১ জনকে খুঁজতে তৎপর গোয়েন্দা ও পুলিশকর্তারা। এঁদের কেউ এভারগ্র্যান্ডের প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্তা, কেউ আবার সংস্থার ব্যবসায়িক সহযোগী। বৃহস্পতিবার, ২০ অগস্ট, চিনের আদালত এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান হুই কা ইয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর ফের সামনে এসেছে এই ‘স্পেশাল ১২’-এর প্রসঙ্গ।

‘আকাশে-পাতালে যেখানে পারো, খুঁজে আনো।’ চিনের শীর্ষ মহলের এমনই নির্দেশের পর গত কয়েক মাস ধরে ১১ জনকে খুঁজতে তৎপর গোয়েন্দা ও পুলিশকর্তারা। এঁদের কেউ এভারগ্র্যান্ডের প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্তা, কেউ আবার সংস্থার ব্যবসায়িক সহযোগী। বৃহস্পতিবার, ২০ অগস্ট, চিনের আদালত এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান হুই কা ইয়ানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর ফের সামনে এসেছে এই ‘স্পেশাল ১২’-এর প্রসঙ্গ।

হুই কা ইয়ান একসময় চিনের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী এবং এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি এভারগ্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। দ্রুত ঋণ নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংস্থাটি চিনের আবাসন বাজারে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। ২০২০ সালে অতিরিক্ত ঋণের বিরুদ্ধে চিনা সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ শুরু হওয়ার পর থেকেই এভারগ্র্যান্ডের আর্থিক সংকট তীব্র হয়। ২০২১ সালে সংস্থাটি বিপুল দায় নিয়ে খেলাপি হয়ে যায়।

শেনঝেনের আদালত হুইকে একাধিক আর্থিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অভিযোগের মধ্যে ছিল তহবিলের অপব্যবহার, অর্থ সংগ্রহে জালিয়াতি, বেআইনিভাবে আমানত গ্রহণ, বেআইনি ঋণ দেওয়া, সিকিউরিটিজ জালিয়াতি এবং ঘুষ। আদালত তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছে। একইসঙ্গে এভারগ্র্যান্ডকে ৮.৮২ বিলিয়ন ইউয়ান এবং তার মূল অনশোর সংস্থা হেংদা রিয়েল এস্টেটকে ৭ বিলিয়ন ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে।

হুই কা ইয়ানের সাজা ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠছে, তাঁর সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে আর কারা ছিলেন? সেই সূত্রেই সামনে আসছে ১১ জনের নামের প্রসঙ্গ। অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন এভারগ্র্যান্ডকে সুবিধা পাইয়ে দিতে কারচুপি এবং ভুয়ো নথি ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এই ১১ জনকে নিয়ে যে নির্দিষ্ট তথ্য, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে চারজন চিনের অর্থ মন্ত্রক বা সরকারি আবাসন পর্ষদের কর্তা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই সেই দাবিগুলিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

এভারগ্র্যান্ডের উত্থান ছিল কার্যত ঝড়ের গতিতে। সংস্থাটি শুধু চিনে নয়, বিদেশেও বিপুল সংখ্যক আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। একসময় তাদের প্রকল্পের সংখ্যা ছিল শতাধিক এবং চিনে প্রায় ৫ লক্ষ ফ্ল্যাট তৈরির কাজ চলছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিন্তু এই বিপুল ব্যবসার আড়ালে ছিল আরও বড় ঋণের বোঝা। ২০২১ সালে খেলাপি হওয়ার সময় এভারগ্র্যান্ডের মোট দায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ছিল।

সমস্যার মূল ছিল ঋণনির্ভর সম্প্রসারণ। নতুন প্রকল্পের জন্য ঋণ, সেই ঋণ মেটাতে ফের ঋণ, এই চক্র থেকে বেরোতে পারেনি সংস্থা। একদিকে নতুন বাড়ি তৈরির কাজ থমকে যায়, অন্যদিকে তৈরি হওয়া বহু বাড়িও বিক্রি হচ্ছিল না। চিনের আবাসন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এভারগ্র্যান্ডের পতন শুধু সংস্থা, কর্মী, শেয়ারহোল্ডার বা ঋণদাতাদের সমস্যায় আটকে থাকেনি; এর অভিঘাত পড়ে গোটা চিনা আবাসন শিল্পে।

চিনের আবাসন বাজারে এই সংকট অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। বহু বছর ধরে অতিরিক্ত ঋণ, দ্রুত সম্পত্তির দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ ছিল। পরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হলে ঋণনির্ভর আবাসন ব্যবসার মডেল বড় ধাক্কা খায়। এভারগ্র্যান্ড সেই মডেলের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে ওঠে। সংস্থার পতনের পর আরও বেশ কয়েকটি বড় আবাসন সংস্থাও ঋণ সংকটে পড়ে বা পুনর্গঠনের পথে যায়।

এভারগ্র্যান্ডের এই পতনের অভিঘাত এখনও কাটেনি। বাড়ির দাম, বিক্রি, নির্মাণ এবং ক্রেতাদের আস্থার সংকট চিনের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে চলেছে। তাই হুই কা ইয়ানের যাবজ্জীবন সাজা শুধু এক ধনকুবেরের পতনের গল্প নয়। এটি চিনের ঋণনির্ভর আবাসন-বুম, তার বিস্ফোরক উত্থান এবং ভয়াবহ পতনেরও প্রতীক।

একসময় যাঁর সাম্রাজ্যকে চিনের আবাসন সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হত, সেই হুই কা ইয়ান এখন যাবজ্জীবন কারাবন্দি। আর তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্য কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এখনও রয়ে গিয়েছে। এভারগ্র্যান্ড কাণ্ডে ‘স্পেশাল ১২’-এর গল্প তাই এখানেই শেষ নয়, বরং হুইয়ের সাজা ঘোষণার পর তা আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে।

Follow Us
Loading...
Unable to load recommendations.