
আসানসোল: পিছু ছাড়েনি বিশৃঙ্খলা। এই নিয়ে দু’বার পদপিষ্টের ঘটনার পরেও হুঁশ ফেরেনি সাধারণ মানুষেরও। শনির রাতের ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। আর তার আগেই নয়াদিল্লি স্টেশনে ফিরেছে সেই গতরাতের ছবি। সামান্য় ট্রেনে ওঠা ঘিরে দেখা গিয়েছে যমে-মানুষে টানাটানি।
আর এবার নয়াদিল্লি থেকে ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার দূর। খোদ বাংলার বুকে ফুটে উঠল একই রকম বিশৃঙ্খলার ছবি। রবির সন্ধ্যায় আসানসোল স্টেশনে প্রয়াগরাজ হয়ে মুম্বইগামী ট্রেনটি ঢুকতেই অসংরক্ষিত কামরা বা জেনারেল বগিতে ওঠার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষিপ্ত জনতা। পুলিশি বাঁধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ট্রেনের দিকে ছুটে যায় তারা। তৈরি হয়ে হুড়োহুড়ি পরিস্থিতি।
অবশ্য, এতে কোনও পদপিষ্ট বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, এমন হুড়োহুড়ির জেরে সেই কাণ্ডটা ঘটতেও বা কতক্ষণ, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। খোদ রাজধানীর বুকে গতরাতে এমন অঘটনের পরেও যে একাংশের মানুষের এখনও হুঁশ ফেরেনি, এমনটাই বলছেন কেউ কেউ।
কীভাবে তৈরি হয় এমন বিশৃঙ্খলা?
স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার প্রয়াগরাজ হয়ে মুম্বইগামী আসানসোল মেইল ট্রেনটি ৭.৪০-এ স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা। যথারীতি যাত্রীদের সুবিধার্থে রওনা দেওয়ার সময়ের ১ ঘণ্টা আগেই আসানসোল স্টেশনের ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে হাজির হয় সেটি।
ইতিমধ্যেই কিন্তু সেই ট্রেন ধরতে হাজারে হাজারে যাত্রী অপেক্ষা করছিলেন স্টেশনের বাইরে। মূলত, গতকালের প্ল্যাটফর্ম বিভ্রান্তির জেরে নয়াদিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া অঘটনের যেন পুনরাবৃত্তি নয়া হয় সেই কারণেই এই যাত্রীদের স্টেশনের বাইরে ট্রেন না আসা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখেছিল রেল-পুলিশ ও প্রশাসন। ছিল যথাযথ ব্যারিকেড ও দড়ির ব্যবস্থাও।
কিন্তু ট্রেন স্টেশনে আসার ঘোষণা হতেই একটা বড় অংশের যাত্রী। মূলত, যারা অসংরক্ষিত কামরায় যাতায়াত করবেন প্ল্যাটফর্মের দিকে ছুটে যান। মানে না পুলিশি বাঁধাও। আর তাতেই ভরসন্ধ্যায় বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয় আসানসোল স্টেশন এলাকায়।
যাত্রীদের মধ্যে এমন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে মুখ খুলেছেন খোদ আসানসোল স্টেশনের ডিআরএম চেতনানন্দ সিং। তাঁর কথায়, ‘মানুষের এরকম হুড়োহুড়ি করার কোনও কারণ নেই। যথেষ্ট ট্রেন রয়েছে। দু’ঘণ্টা অন্তরই ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে।’