
জলপাইগুড়ি: বাড়িতে বকাবকি করেছিলেন মা, বাবা। এমনটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু তার জন্য মেয়ে যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে বসবেন, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না জলপাইগুড়ির রায়দম্পতি। শনিবার সকালে ঘর থেকে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। নিহতের নাম অর্পিতা রায় (২১)। এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। হাসপাতালের সামনে রাস্তায় আছাড়ি-বিছাড়ি করতে থাকেন তাঁরা।
দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা নিয়ে বাড়িতে বকাবকি করেন মা, বাবা। ঘরের কোনও কাজই করতে চান না। কম বেশি সব বাড়িতেই এমনটা ঘটে থাকে। অভিযোগ, এই বকাবকি নিয়ে অভিমান করেন অর্পিতা। এরপর নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জলপাইগুড়ি মণ্ডলঘাট গ্রামপঞ্চায়েতের বিশ্বাসপাড়ায় এই ঘটনা ঘিরে শোরগোল। শনিবার দুপুরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাড়ির লোকেরা।
জানা গিয়েছে, অর্পিতার বাবা হরি রায় গাড়ি চালান। তাঁকে সকাল সকাল খাওয়াদাওয়া সেরে বেরিয়ে যেতে হয়। স্ত্রীকে একা হাতেই সবটা করতে হয়। এদিকে শনিবারও দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন অর্পিতা। এরপরই বাড়িতে কিছুটা চেঁচামেচি হয়। এর কিছু পরেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
প্রতিবেশী দেবু রায় বলেন, “বাড়িতে বাবা, মা একটু শাসন করেছিল। বকাবকি করেছিল। তার জন্য এই অবস্থা। কলেজে পড়ে, ২১ বছর বয়স। ঘরের মধ্যেই এমনটা করল। বাবা, মা তো সন্তানকে শাসন করবেই। বেলা অবধি ঘুমোলে বা কাজ না করলে কিছু বলতে পারবে না? এমন ঘটনা ঘটাবে?”