
পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, তোলাবাজি-দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে। পালাবদলের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তারপরও বেশ কিছু জায়গা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ক’দিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে শুধরে যেতে। ১৫ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন। এর মাঝেই এবার বাস থেকে টাকা তোলার অভিযোগ।
পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় গেরুয়া কুপনে বাস থেকে টাকা তোলা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ভারতীয় মজদুর সংঘের কয়েকজন বাস স্ট্যান্ডে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই টাকা নিচ্ছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বিএমএস জেলা সভাপতি। এই ঘটনায় বিএমএস-কে একযোগে আক্রমণ করেছে বাম ও কংগ্রেস শ্রমিক সংগঠন।
বাস পিছু ৩০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ। যদিও এটিকে ‘অনুদান’ বলছে শ্রমিক সংগঠন। কুপনে কোনও রাজনৈতিক দল বা শ্রমিক সংগঠনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
জানা গিয়েছে, গত চার-পাঁচ দিন ধরে গুসকরা বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো প্রতিটি বাস থেকে ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে একটি কুপন। তবে সেই কুপনে কোনও সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম নেই, রয়েছে শুধুমাত্র গেরুয়া পতাকার ছবি।
উল্লেখ্য, গুসকরা বাস স্ট্যান্ডে আগে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের ইউনিয়ন অফিস ছিল। সেখান থেকেই বিভিন্ন রুটের বাস পরিচালিত হত। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ওই ইউনিয়ন অফিসের রঙ বদলে গেরুয়া করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে বিজেপির পতাকার পাশাপাশি ভারতীয় মজদুর সংঘের পতাকাও দেখা যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বাস স্ট্যান্ডে আসা বাসগুলির কাছ থেকে গুসকরা পুরসভা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ টাকা প্রবেশ ফি আদায় করে। সেই ফি পুরসভার কর্মীরা সরকারি কুপনের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। এর পাশাপাশি চলতি মাসের শুরু থেকে বাসপিছু আরও ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই টাকার জন্যই দেওয়া হচ্ছে গেরুয়া পতাকার ছবি-সহ কুপন, যেখানে কোনও সংগঠনের নাম উল্লেখ নেই।
বাস কর্মী অনন্ত বাগদী বলেন, “পুরসভা থেকে ২৫ টাকা করে নেয়। গত চার-পাঁচদিন ধরে শ্রমিক সংগঠন ৩০ টাকা করে নিচ্ছে প্রতিদিন।”
এই বিষয়ে ভারতীয় মজদুর সংঘের জেলা সভাপতি মাধব দাস বলেন, “রাজ্য, জেলা বা কেন্দ্রীয় বিএমএস সরাসরি কোনও টাকা নিচ্ছে না”। তাঁর দাবি, অনুমতি নিয়ে গুসকরা বাস শ্রমিক সংগঠন থেকে এই অনুদান সংগ্রহ করছে। বাস স্ট্যান্ডে পরিষেবা দেওয়া কর্মীদের ন্যূনতম খরচ মেটাতেই এই অনুদান নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “ওরা যা পাচ্ছে, সেটাই তোলা বলছে। জেলা বিএমএস বা রাজ্য বিএমএস চার আনা পয়সাও নিচ্ছে না। বিল না আসা পর্যন্ত কেউ টাকা নিতে পারবে না। যেটা হচ্ছে, সেটা হল বাসের সঠিক চলাচল পরিচালনের জন্য পারিশ্রমিক নিচ্ছে। এটা বিএমএসের নামে নয়, ওরা বিএমএসেরই লোক। ওরা বিস্তারের কাজ করছে। ওরা শ্রমিকদের পরিচালন করে, তাই ওদের পারিশ্রমিক নিচ্ছে। এটা বৈধ। বিজেপির কোনও শ্রমিক সংগঠন হয় না। বিজেপির কোনও ছাত্র সংগঠন বা ধর্মীয় সংগঠন হয় না। আমরা একটা পরিবারের আলাদা আলাদা অংশ হিসাবে কাজ করি।”
তবে সংগঠনের নামবিহীন কুপনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই গুসকরায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। বাস মালিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা একযোগে আক্রমণ করে বলছেন, “এক তোলাবাজ দল গিয়েছে, আর এক তোলাবাজ দল ক্ষমতায় এসেছে।”