
বীরভূম: এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন হোয়াসটঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মোবাইল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে গিয়ে ধরাও পড়েছে বেশ কয়েকজন। আর এবার শুধু তাদের দাদা-দিদিদের কীর্তি। কলেজের পরীক্ষায় নকল করায় বাধা পেয়ে একেবারে কলেজে ভাঙচুর করার অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। কলেজের ক্লাসরুমের ফ্যান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মল্লারপুরে তুর্কু হাঁসদা লাপসা হেমব্রম মহাবিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার সেখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরীক্ষা ছিল। সিউড়ির বিদ্যাসাগর কলেজের পড়ুয়াদের সিট পড়েছিল মল্লারপুরের ওই কলেজে।
মল্লারপুর তুর্কু হাঁসদা লাপসা হেমব্রম মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুমন মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, গতকাল তাঁরা দেখেন কলেজের দু’টি ক্লাসরুমে ফ্যান ভেঙে আছে। পরীক্ষার পরই এই ঘটনাটি নজরে আসে কলেজ কর্তৃপক্ষের। তাঁর সন্দেহ, পড়ুয়াদেরই কেউ এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। বললেন, ‘গতকাল কিছু ছাত্রছাত্রীর কাছে মোবাইল পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার গাইডলাইন অনুযায়ী, তা বেআইনি। যাঁরা সেই সময় ইনভিজিলেটর ছিলেন, তাঁরা সেই মোবাইলগুলি বাজেয়াপ্ত করে খাতা কেড়ে নিয়ে, ওই পরীক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।’ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানাচ্ছেন, গতকাল কোনও কোনও পরীক্ষার্থী নকলও করছিল। গুচ্ছ গুচ্ছ মাইক্রো জেরক্সও পাওয়া গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সন্দেহ, এসবের কারণে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে। বললেন, ‘নকল করতে বাধা পেল বলেই হয়ত, অতি উৎসাহ নিয়ে কলেজের সম্পত্তি নষ্ট করেছে। দুটি ঘরের ফ্যান ভাঙা হয়েছে। বাথরুমের কল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাথরুমে জল থইথই অবস্থা।’ এই ক্ষতির ফলে কলেজের উপর আর্থিক চাপ পড়বে বলেও চিন্তায় পড়েছেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।