Asish Banerjee Death: ‘কোনও দুর্নীতি করিনি, যেভাবে অপমান করা হয়েছে মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল’, সুইসাইড নোটে আর কী লিখে গিয়েছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়?

Asish Banerjee Death Note: পুলিশ সূত্রে খবর, সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে দলের কথা, দুর্নীতির কথা। তবে, মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী করেননি তিনি। সুইসাইড নোটে লেখা, যেভাবে অপমানিত করা হয়েছে, তাতে রাজনীতিতে আসাটাই তাঁর ভুল ছিল। তাঁর পরিবারের লোকজন যাতে কেউ রাজনীতিতে না আসেন, সেই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।

Asish Banerjee Death: কোনও দুর্নীতি করিনি, যেভাবে অপমান করা হয়েছে মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাই ভুল ছিল, সুইসাইড নোটে আর কী লিখে গিয়েছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়?
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Aug 16, 2026 | 12:48 PM

রামপুরহাট: রামপুরহাটের পার্টি অফিস থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কের মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবারের দাবি, কেউ কিছু আগের থেকে বুঝতে পারেননি। একেবার স্বাভাবিকই ছিলেন। স্বাধীনতা দিবসের দিনও পতাকা উত্তোলন করেন আশিসবাবু। হঠাৎ কোথা থেকে কী হয়ে গেল, বুঝতে পারছেন না তাঁরা। তবে, প্রাক্তন মন্ত্রীর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কী লেখা রয়েছে সুইসাইড নোটে, যা একাধিক প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহলে।

মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন…

“ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি।

সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি। এমনকী আমার যেসব ছেলেরা অ্যাটেনডেন্ট হয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে একটা মিষ্টি পর্যন্ত খাইনি। কোনও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে কখনও জড়িত হইনি।

TRDA-তে জেনেরাল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমারও এইসব বিষয়ে কোনও আগ্রহ ছিল না।

আমাকে ম্যালাইন করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করারই পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যেই থাক।

সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি। কোনওদিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। স্পেশ্যাল ক্লাস নিয়েছি। ছাত্রদের অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি।

এখানে আসার দরকার হলে আকস্মিক কোনও সংবাদে বিচলিত না হয়ে নীলকে খুব সাবধানে নিয়ে আসিস। তিতলি-রানা-সোমু-দেবপ্রিয়া-রিকি-রিন্টি-বড়দা-মেজদা-মেজবৌদি-দীপা-টুলা…সকলে আমার প্রাণভরা ভালবাসা নিস।

সারাজীবন সকলে মিলে-মিশে থাকিস। নিজেদের কোনও মনোমালিন্য হলে নিজেরাই বসে মিটিয়ে নিস। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।”

রাজনৈতিক নেতারা কী বলছেন?

অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন অনুব্রত মণ্ডল। টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেন, “খুব ভালো লোক ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনও বিবাদ ছিল না। কোনও ঝামেলায় থাকতেন না। একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন। কোনও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না। শান্তিপ্রিয় লোক। পরিবারেও কোনও ঝামেলা ছিল না। কেন হল, বুঝতে পারছি না।”

রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “রাজনীতিতে কোথায় কে অপমানিত হয়েছেন, জানি না। বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু, তারপরেও আমি গিয়ে তাঁকে প্রণাম করে এসেছিলাম। অপমানিত হলে তাঁর দলের কাছেই হতে হয়েছে। বাড়ি থেকেও নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বাড়ির কোন লোক রাজনীতি করত, কারা উত্যক্ত করত, সবই তদন্তে আসা উচিত। খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ বলেন, “অত্যন্ত খারাপ ঘটনা। আমি আন্তরিক শোক প্রকাশ করছি। পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তিনি আদৌ দোষ করেছেন, তিনি আদৌ জড়িত কিংবা জড়িত নয়, সেটা বলার জায়গায় কেউ নেই। কিন্তু, প্রমাণ হওয়ার আগে কলঙ্ক, অপমান, কুৎসা দিয়ে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করে একজনকে কালিমালিপ্ত করা হয়, সেটা হয়তো তিনি মানসিকভাবে নিতে পারেননি। কিছুদিন আগেই দেখেছি, তিনি যখন ২১ জুলাই ভালো তৃণমূলের মেয়ো রোডের সভার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক বিজেপি নেতা তাঁকে অকথ্য ভাষায় অপমান করেন। দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে এভাবে ডিম মারা, অপমান করা এই যে কলুষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা হয়তো মানসিকভাবে নিতে পারেননি। তার থেকে হয়তো ঘটনা ঘটেছে। দলীয় অন্যায়ে কেন প্রতিবাদ করতে পারেননি, সেটা তাঁদের বিষয়।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us