
সিউড়ি: এক ট্রাক্টর বালির দাম ৮০০০ টাকা। সেটাই এবার পাওয়া যাচ্ছে ১৫০০ টাকায়। চমকে যাবেন না। সত্যিই ৮ হাজার টাকার বালি পাওয়া যাচ্ছে দেড় হাজার টাকায়। সিউড়ির বিধায়ক ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া কথা অনুযায়ী শুক্রবার থেকে সিউড়ি ও রাজনগর ব্লক এলাকায় আবাস উপভোক্তাদের ট্রাক্টর পিছু ১৫০০ টাকায় বালি দেওয়া হচ্ছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে জেলার এই দুটি ব্লকে বালি দেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০০ CFT ( এক ট্রাক্টর ) বালি দেওয়া হবে ১৫০০ টাকায়। এই নিয়ে জালিয়াতি রুখতে আবাসের উপভোক্তাকে সমস্ত নথি-সহ আগে স্থানীয় BDO-র কাছে আবেদন জানাতে হবে। সেই নথি খতিয়ে দেখে বালি দেওয়ার সরকারি চালান তৈরি করা হবে। যার এক কপি চালান যাবে স্থানীয় থানার কাছেও।
বালি অন্য মাধ্যম দিয়ে কিনলে সরকারি চালান-সহ দাম পড়ে প্রায় ৮ হাজার টাকা। বালির চড়া দামের জন্য অনেক আবাস উপভোক্তা বাড়ি করতে পারছিলেন না। সরকারিভাবে কম দামে বালি পাওয়ার খবরে খুশি উপভোক্তারা। তাঁরা বলেন, “আমাদের মতো মধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষের খুবই উপহার হয়। জগন্নাথবাবু বলেছিলেন। খুব ভালো লাগছে। বিধায়ক কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। আমরা খুবই খুশি।”
কী বলেছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়?
কিছুদিন আগে এই নিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমরা আবাস যোজনার উপভোক্তাদের সস্তায় বালি দেব। যেভাবেই হোক, জেলা প্রশাসনের অধীনে এই ব্যবস্থা করতে হবে। জেলা প্রশাসন, ভূমি দফতরকে সঙ্গে রেখে বীরভূমের ১০-১১টি ব্লকে প্রাথমিকভাবে এই সুবিধা চালু করছে। সিউড়ি ১ নম্বর, ময়ূরেশ্বর, সাঁইথিয়া, লাভপুর, বোলপুর-সহ কয়েকটি ব্লকে চালু হবে। নতুন করে আবাস যোজনার সার্ভে হবে। সেই সার্ভেতে যাঁদের নাম উঠে আসবে, তাঁদের আমরা চলতি বাজারদরের থেকে অনেক কমে ট্রাক্টর পিছু ১৫০০-২০০০ টাকা বালি দেব। গরিব মানুষ যাতে সস্তায় বালি পায়, তার জন্য এই ব্যবস্থা। বৈধ বালিঘাটের মালিকদের এই বালি সরবরাহের জন্য সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করছি। এই মডেল যদি সফল হয়, প্রথমে পুরো বীরভূম আর তারপর সারা রাজ্যে কম দামে আবাস উপভোক্তাদের বালি দেওয়া হবে।”