
বীরভূম: তাঁকে বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ বলা হয়। তবে মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল শুধুই পাথর সম্রাট ছিলেন না। রাস্তা তৈরিতেও ‘কিং’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এক বছরেই ৮৪টি রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল তাঁর সংস্থা এমএসপি (মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট)। শুধু বীরভূম নয়, আশপাশের জেলাতেও রাস্তা তৈরির টেন্ডার পেয়েছেন তিনি। কীভাবে রাস্তা তৈরির টেন্ডারেও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন টুলু মণ্ডল?
গত কয়েকদিন ধরে খবরের শিরোনামে বীরভূমের টুলু মণ্ডল। তাঁর ১৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর তিনি বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। টুলুকে পাওয়া না গেলেও তাঁর একের পর এক ‘কীর্তি’ সামনে আসছে। এবার টুলুর রাস্তা তৈরির বরাত পাওয়ার পিছনে কোন জাদু ছিল, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
কীভাবে টেন্ডারে টুলুর দাদাগিরি চলত?
তৃণমূল জমানায় পথশ্রী, নদী বাঁধের কাজে অধিকাংশ বরাত পেতেন টুলু। বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের একাংশে বাঁধ, রাস্তা তৈরি ও মেরামতির বরাত পেতেন। প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার কাজও বাগিয়ে ফেলে টুলুর সংস্থা এমএসপি (মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট)। ঝাড়খণ্ডেও রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছে তাঁর সংস্থা। একটি দুটি নয়, এক বছরে ৮৪টি রাস্তা তৈরির টেন্ডার পেয়েছেন। সেগুলির কাজ প্রায় শেষের পথে।
কীভাবে টেন্ডার পেতেন টুলু?
যেহেতু তাঁর নিজের বালি ও পাথরের ব্যবসা রয়েছে। তাই, টেন্ডারে সবচেয়ে কম দাম দিতেন টুলু। প্রথমেই অন্য ঠিকাদারদের ছিটকে দিতেন। পিডব্লুডি, জেলা পরিষদ-সহ সরকারি মহলে রোড সম্রাট নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন টুলু। প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার টেন্ডারও প্রায় সবটাই টুলু ও তাঁর অনুগামীদের দখলে থাকত। তৃণমূল সরকারের পথশ্রী প্রকল্প, নদী বাঁধ, ড্যামের বেশিরভাগটাই একাধিক কোম্পানির নামে কাজ করতেন টুলু।
সূত্রের খবর, দুর্নীতির শিকড়ের খোঁজে এবার তদন্তভার নিতে পারে ইডি। বীরভূম থেকে দুর্নীতির টাকা বিদেশেও পাচার হয়েছে বলে সন্দেহ ইডির। আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের কি যোগ রয়েছে? খতিয়ে দেখতে পারে ইডি।
এদিকে, এদিন টুলু মণ্ডলের মহম্মদ পার্কিংয়ের ভেতরে থাকা পাথর সিজ করল বীরভূম জেলা প্রশাসন। মহম্মদবাজারের BLRO ওই পার্কিংয়ের ভেতরে থাকা থাকা ১৫ লক্ষ ৬৯ হাজার ২৪৯ কিউবিক ফুট পাথর বাজেয়াপ্ত করল। পাথর মজুতের নথি চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি না জমা দিলে, নিলাম করা হবে ওই পাথর।