
বীরভূম: এই জেলায় পাথর খাদান রয়েছে। রয়েছে বালি খাদান। এই জেলায় কি টাকার খনিও রয়েছে? বীরভূমের ‘পাথর সম্রাট’ মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়ার পর থেকে এই প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমে ‘লুকোনো’ নগদে নজর দিল গোয়েন্দা ও পুলিশ। সূত্রের খবর, জেলায় ২৫০ কোটি টাকার বেশি নগদ লুকিয়ে রাখা আছে বলে গোয়েন্দাদের অনুমান। সেটাই খুঁজে বের করতে চাইছেন গোয়েন্দারা।
তৃণমূল আমলে বীরভূমে পাথর খাদান থেকে রাজস্বের বেশিরভাগ অংশ সরকারের ঘরে জমা না পড়ে অন্যত্র চলে যেত বলে বিধানসভাতেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি, একসময় বীরভূমের তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলও দাবি করেন, পাথর থেকে রাজস্বের সামান্য অংশ সরকারের ঘরে জমা পড়ত। বাকিটা যেত অন্যত্র। তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলেন।
এই আবহে দিন চারেক আগে বীরভূমের পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় টাকা ও সোনার পাহাড়। তার পরিমাণ দেখে চোখ কপালে ওঠে সবার। তবে উদ্ধার হওয়া এই টাকা হিমশৈলের চূড়া বলে পুলিশ ও গোয়েন্দারা মনে করছেন। সূত্রের খবর, জেলায় ২৫০ কোটির বেশি নগদ লুকিয়ে রাখা আছে বলে অনুমান গোয়েন্দাদের। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের পর সেই তথ্যই সামনে আসছে।
সূত্রের খবর, পাথর, বালির নগদ টাকা লুকিয়ে রাখার খবর রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। বীরভূমে তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, একাধিক ব্যবসায়ী ও তাঁদের সঙ্গীসাথীদের উপর নজর রয়েছে গোয়েন্দা ও পুলিশের। সূত্রের খবর, বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা জেলা থেকে অন্যত্র পাচারের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। নগদ টাকা লেনদেনে যুক্তদের তালিকা তৈরি করছে তারা।
বীরভূমে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে। এই নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এর একটা অংশ বিদেশেও চলে যেতে পারে। সেই সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা যদি একজন ফড়ে, দালাল কিংবা এজেন্টের কাছে থাকে, তাহলে মালিকরা কত রোজগার করেছে? আড়াইশো কোটি টাকা! বুঝতে পারছেন, এই আড়াইশো কোটি টাকায় কী হতে পারে? জনগণের করের টাকা চুরি করে এরা বড়লোক হয়েছে।”
পাল্টা কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “যদি কেউ অবৈধ টাকা করে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেবে। একটা জেলায় এত বাড়বাড়ন্ত হল, সেখানে তো শুধু দু-চারটা লোকের দোষ হতে পারে না। একাধিক দলের একাধিক বড় নেতার চোখের সামনে সব হয়েছে। ফলে তদন্ত যখন হবে, সেখানকার অনেক প্রভাবশালীকে নজরে রেখেই তদন্ত হওয়া উচিত।”