
লাভপুর: ফিক্স ডিপোজিট করানোর নাম করে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। কাঠগড়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লাভপুর শাখার অন্তর্গত গ্রাহক সেবা কেন্দ্র। সম্প্রতি লাভপুরের একই পরিবারের তিন জন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের তাঁদের কিছু জমানো টাকা ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ করতে যান। অভিযোগ, গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের সদস্যরা ওই পরিবারের তিন জনের কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে জানান ফিক্সজ ডিপোজিট করা হয়ে গিয়েছে। প্রমাণস্বরূপ তাঁদের একটি রশিদও দেওয়া হয়। পরে যখন তাঁরা ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, পাসবই আপডেট করে জানতে পারেন, তাঁদের আদৌ কোনও ফিক্সড ডিপোজিটই হয়নি। যে রশিদ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও জাল। এরপরই বিষয়টি নিয়ে থানার দ্বারস্থ হন প্রতারিত পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, পুরো লাভপুর জুড়েই ওই গ্রাহক সেবাকেন্দ্রের প্রতিনিধিরা সক্রিয়। প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। প্রতারিত ব্যক্তিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লাভপুর ব্লকের আধিকারিক এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রশাসন। ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের প্রতিনিধির লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের নিয়োগ করে মল্লারপুর নয়শুভা নামে একটি সংস্থা। ওই সংস্থাও ওই প্রতিনিধির বিরুদ্ধে লাভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। অভিযুক্তরা অবশ্য ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। টাকাগুলো যাতে ফেরত পাওয়া যায় সেই নিয়ে নজর রাখছে প্রশাসন। বিডিও শিশুতোষ প্রামাণিকের বক্তব্য, “আমরা আগেই অভিযোগ পেয়েছিলাম। সাত জনের অ্যাপ্লিকেশন পেয়েছিলাম। ১০ লক্ষ টাকারও বেশি এফডি ছিল। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তদন্ত চলছে।” যদিও এ বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।