
সিউড়ি: নেপালে বিপর্যয়ের পাঁচদিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের (Subhrangshu Roy) স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের। দু’ চোখের পাতা এক করতে পারছেন না শুভ্রাংশু। যেদিন নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা, সেদিন তাঁর সঙ্গে একই ট্রেনেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা সন্দীপ দেব। সম্প্রতি, নেপাল (Nepal Flood) থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তবে, সেই ভয়ঙ্কর দিনটাকে ভুলতে পারছেন না। আতঙ্কের ছাপ চোখে-মুখে স্পষ্ট। টিভি৯ বাংলাকে সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তারপর কী হয়েছিল? ঘটনার দিন কি তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন শর্মিষ্ঠা (Sharmistha Bhowmick Roy) ?
টিভি৯ বাংলাকে সন্দীপ দেব জানিয়েছেন, একই ট্রেনে থাকলেও শর্মিষ্ঠা অন্য ট্যুর ট্রাভেলসের সঙ্গে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “২১ অগস্ট সিউড়ি থেকে হাওড়াতে যাই। হাওড়া থেকে মিথিলা এক্সপ্রেসে এক টুর ট্রাভেলসের সঙ্গে মানস সরবোরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলাম। ওই ট্রেনে ছিলেন শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রীও। তিনি অন্য ট্যুর ট্রাভেলসের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন। একই ট্রেনে করে আমরা কাঠমান্ডু পৌঁছয়। সাইড সিন করার পর আমরা ভিসার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু, আমাদের ঠিক আগের দিন ওঁরা ভিসা পেয়ে যান। তাই সকালে বেরিয়ে যান। আমরা ২৫ তারিখ রাতে ভিসা পেয়ে, ২৬ তারিখ সকালে বেরিয়ে যাই। পরিষ্কার আকাশ, কোথাও কোনও বৃষ্টি নেই। বিদুর নামে এক জায়গায় ঢুকছি, প্রচুর মানুষ উল্টো দিক থেকে ছুটে ফিরে আসছে। সেই মুহূর্তে বাস ড্রাইভার তৎপরতার সঙ্গে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে এসছে। এরকম ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখিনি।”
সন্দীপ দেবের কথায়, ভিসা পেতে একদিন দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তা না হলে ওই পরিস্থিতি থেকে ফেরা সম্ভব ছিল না। তাহলে কি একদিন আগে ভিসা পাওয়াটাই কি কাল হল শর্মিষ্ঠার? সন্দীপের দাবি, শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী-সহ মোট ২১ জন ছিলেন। তাঁদের কারও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়,জলের যা তোড় ছিল, তাতে কারও বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে, নিখোঁজ প্রত্যেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক, এমনটাই প্রার্থনা করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অগস্ট একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। মানস সরোবর যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সন্তানরা ছোট হওয়ায়, স্বামী শুভ্রাংশুর কাছে রেখে একাই ঘুরতে যান শর্মিষ্ঠা। তবে নেপালের বিপর্যয়ের পর থেকেই আর তাঁর খোজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্ত্রীর খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভ্রাংশু বলেন, “যার যায়, সে তো বোঝে…আমার স্ত্রী আজ মিসিং। ৭দিন হল গিয়েছে, ২৬ তারিখ থেকে কথা হচ্ছে না। মানস সরোবর দর্শন করতে গিয়েছিল। ৭ সেপ্টেম্বর ফেরার কথা ছিল। একটা উৎকণ্ঠা তো থাকেই। বাড়িতে দুটো বাচ্চা আছে।”