
তারাপীঠ: তারাপীঠ হোটেলে আগুনে (Tarapith Hotel Fire) পুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭। ইতিমধ্যেই হোটেলের মালিককে আটক করা হয়েছে। সিল করে দেওয়া হয়েছে হোটেল। ঘটনায় চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। আবাসিকদের অভিযোগ, ঘটনার সময় কোনও ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। শুধু তাই নয়, এমার্জেন্সি এক্সিট গেটও (Hotel Exit Gate) তালাবন্ধ ছিল। ফলে বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ব্যালকনি থেকে পাইপ দিয়ে নেমে এসেছেন। এখানেই প্রশ্ন উঠছে গাফিলতি কার? গোটা ঘটনায় তৃণমূল সরকারের আমলে টিআরডিএ-কেই দায়ী করেছেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রব সাহা।
হোটেলের মালিকের দাবি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। একই দাবি করেছেন দমকলকর্মী। নিয়ম মেনে সিঁড়িরও ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু, সিঁড়ির জানলা সব বন্ধ ছিল। এর ফলে ধোঁয়া বেরোতে পারেনি। সেইকারণেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অনেকের। কিন্তু, এমার্জেন্সি এক্সিট গেট কেন বন্ধ ছিল, কেন পুলিশকে গেটে ভাঙতে হয়েছে, আবাসিকদের ডাকে কেন সাড়া দেয়নি হোটেল কর্তৃপক্ষ? এই প্রশ্নগুলি উঠছে। ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, বিজেপি বিধায়ক ধ্রব সাহার অভিযোগ, হোটেলের অনুমতি দিলেও খতিয়ে দেখার কাজ করেনি। টিআরডিএ দুর্নীতির কারণেই এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল। আরও অভিযোগ, রামপুরহাটে এধরনের একাধিক হোটেল রয়েছে। যা বাসযোগ্য নয়, যেখানে যথাযথ সুরক্ষাবিধি পর্যন্ত মানা হয়নি। বিধায়কের আশ্বাস, তারাপীঠের এই ধরনের সব হোটেলের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ ও দমকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার তারাপীঠের হোটেলে ভোররাতে আচমকা আগুন লাগে। জানা গিয়েছে, ভোররাতে হোটেলের এক তলায় বিদ্যুত সরবরাহের এনসিবিতে হঠাৎ আগুন দেখতে পান হোটেলের কর্মীরা। তারপরই চিৎকার, ডাকাডাকি শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু, ততক্ষণে আগুন পুরো ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিল্ডিংয়ে। বিশেষ করে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যাওয়ায় আরও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।