
বোলপুর: অনুব্রত মণ্ডল তিহাড় জেল থেকে ফেরার পর কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই দ্বন্দ্ব একেবারে চরমে উঠেছে। মঙ্গলবার বোমাবাজির ছবি দেখেছে বীরভূম। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই মঙ্গলবার ওই এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। আর বুধবার দেখা গেল, এক তৃণমূল নেতা দলীয় কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে সরাসরি অভিযোগ তুললেন দলেরই নেতা কাজল শেখের বিরুদ্ধে।
এদিন তৃণমূল কর্মী তথা বালি ব্যবসায়ী মহম্মদ আদরাফুল ওরফে আজাহারকে গ্রেফতার করেছে নানুর থানার পুলিশ। সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে ওই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। আর সেই গ্রেফতারির পরই প্রকাশ্য়ে এল অনুব্রত মণ্ডল গোষ্ঠী বনাম কাজল শেখ গোষ্ঠীর কোন্দল।
এদিন সন্ধ্যায় তৃণমূল নেতা জামশেদ আলি খান বোলপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, “মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে ওই তৃণমূল কর্মী তথা বালি ব্যবসায়ীকে। আর সেই গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছেন বীরভূমের জেলা সভাধিপতি ফাইজুল হক ওরফে কাজল শেখ।” অনুব্রত মণ্ডল নিজে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও জামশেদ আলি খান যে কেষ্ট-ঘনিষ্ঠ, তেমনটাই শোনা যায় জেলা রাজনৈতিক মহলে।
এভাবে কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে না? এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে চাননি জামশেদ আলি খান। অন্যদিকে, কাজল শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কাজল শেখ গোষ্ঠীর বলে পরিচিত স্বপন সেন ও অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ কোর কমিটির উজ্জ্বল হক কাদেরির লোকজনের মধ্যে প্রবল ঝামেলা হয়। চলে এই বোমাবাজির ঘটনা। বোমার আঘাতে পা উড়ে যায় এক তৃণমূল কর্মীর।