
হাবড়ার পর কোচবিহার। স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day 2026) এসটিএফ-এর (STF) বড়সড় সাফল্য। পাক চর সন্দেহে ফের বাংলা থেকে গ্রেফতার তিনজন। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে সামনে আসছে সব বিস্ফোরক তথ্য। মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে সীমান্তের পাচারকারীদের ব্যবহার করত ISI। অভিযুক্তদের নাম মহম্মদ শফিকুল ইসলাম, নূর নাসিরউদ্দিন আলি ও রশিদুল হক। ধৃতরা সীমান্ত এলাকায় মাদক থেকে শুরু করে গরু এবং জাল নোট কারবারে যুক্ত। জানা যাচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় এইসব পাচারকারীদের ব্যবহার করেই বাংলাদেশ ও নেপাল হয়ে ভারতীয় সিম পৌঁছে যেত পাকিস্তানে। আর পাক মাটিতে বসে সেই সিম ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদি কাজে মদত ISI এজেন্টদের।
এসটিএফের দাবি, উত্তর দিনাজপুরের পাঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল জেরায় জানিয়েছে, সে গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত। সেই কারবার চলানোর সময় বাংলাদেশের নাগরিক আকবর ওরফে সম্রাটের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। শফিকুল আকবরকে একাধিক সিম কার্ড সরবরাহ করেছিল বলে জানিয়েছে। এছাড়াও রশিদুল হক, প্রদীপ্ত বসু এবং বিশাল/কাঞ্চন-এর সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। তাদের মাধ্যমেও সিম কার্ড ও প্রি অ্যাক্টিভেটেড সিম নম্বর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানে।
কোচবিহারের বাসিন্দা নুর নাসিরউদ্দিনও গরু পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই সূত্রেই তারও আকবর ওরফে সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।
আকবরের অনুরোধে নুর নাসিরউদ্দিন নিজের পরিচয় ব্যবহার করে দুটি ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে। তারপর জোহরের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
রশিদুল হক সিম ও FICN (Fake Indian Currency Note) সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিভ হিসেবে উঠে এসেছে। জেরায় সে জানায়, শফিকুলের মাধ্যমে আকবরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। রশিদুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নাজিরহাট-নয়ারহাট সীমান্ত এলাকায় FICN পাচারের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল। এই লেনদেনে প্রায় ৬–৭ লক্ষ টাকার জাল ভারতীয় নোট ছিল বলে সে জানিয়েছে। তার নিজের এসবিআই অ্যাকাউন্টে ২.৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল আকবর। পরে সেই টাকা চক্রের আরও এক সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
কেন ভারতীয় সিম পাকিস্তানের পঞ্জাবে ব্যবহার করা হয়?
পাক পঞ্জাব এবং POK থেকে ফোন কল করা হয় দেশের বিভিন্ন আর্মি বেসে। কোচবিহার থেকে ধৃতদের পাঠানো সিম থেকেই ফোন করা হয় বলেই STF সূত্রে খবর।ভুয়ো পরিচয়ে ফোন করা হয় বিভিন্ন সেনা ছাউনিতে।
সেনা জওয়ান এবং সেনা অফিসারদের ফোন করে হানিট্র্যাপ সহ নানা কায়দায় ফাঁদে ফেলতে ফোন কল করা হয় বিভিন্ন সময়ে। ফাঁদ পাতাতেই ব্যবহার করা হয় ভারতীয় সিম। এছাড়াও ভারতে লুকিয়ে থাকা গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভারতীয় সিম ব্যবহার করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।