
শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত। রাজ্যে বিরোধী দল থাকাকালীন বারবার এই অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। ভোটের আগে প্রচারে এসেছে উত্তরবঙ্গ বঞ্চনা ইস্যুতেই শান দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপির বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীদের মুখে শোনা গিয়েছে উত্তরবঙ্গে বঞ্চনা দূর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এবার সেই উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়েই আরও একবার বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুললেন পুর ও নগরোন্নায়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তবে, একইসঙ্গে বার্তা দিলেন, উত্তর বা দক্ষিণ ভাগাভাগির উন্নয়ন করার মতো দল বিজেপি নয়। গোটা রাজ্যেই উন্নয়ন হবে।
রবিবার উত্তরবঙ্গে পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুর ও নগরোন্নায়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তারপর উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই,গত ১৫ বছরে বাংলাকে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে কীভাবে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল, তা তুলে ধরেন। অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমাদের সরকারের কেন আনা হয়েছে? ১৫ বছর বাংলার মানুষ, উত্তরবঙ্গের মানুষ কোনও পরিষেবা পায়নি। উত্তরবঙ্গের মানুষ তো পুরোপুরি বঞ্চিত। তৃণমূলের সুপ্রিমো প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। ঠকিয়েছেন। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার প্রত্যেকটার কথা রাখব, আর সেটা দেখতে পাচ্ছেন বাংলার মানুষ।”
গোটা রাজ্যের উন্নয়নের বার্তা দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “এরকম ভাবার কোনও কারণ নেই উত্তরবঙ্গের লোকেরা শুধু বঞ্চিত থাকবে বা দক্ষিণবঙ্গে শুধু উন্নয়ন হবে। আমরা উত্তর-দক্ষিণ এভাবে করতে চাই না। পুরো বাংলা জুড়ে একইভাবে উন্নয়ন হবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রথম প্রায়োরিটি হল উন্নয়ন।”
ভোটের সময় প্রচারে এসে তৃণমূলকে ‘অ্যান্টি উত্তরবঙ্গ’ বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে উত্তরবঙ্গকে অবহেলা করেছে। একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। চা বাগানগুলিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। তবে, রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা দূর করতে ময়দানে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গে গিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি, শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভাতেও জায়গা করে নিয়েছেন উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধায়ক। মন্ত্রিসভার ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ৯জনই উত্তরবঙ্গের। তৃণমূল আমলে এতজন মন্ত্রী আগে উত্তরবঙ্গ পায়নি। অবশেষে উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা কাটল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, রবিবারের বৈঠকে উত্তরবঙ্গ বন্যা নিয়েও বলতে শোনা যায় অগ্নিমিত্রাকে। মন্ত্রী বলেন, “আগেরবার বন্যা, ধস দেখেছিলাম। মৃত্যু দেখেছিলাম উত্তরবঙ্গে। এবার তাই বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম বৈঠক।” মন্ত্রীর দাবি, যেভাবে তাঁরা কাজে নেমেছেন, তাতে তাঁদের ধারণা বর্ষাকাল উতরে দিতে পারবেন তাঁরা।