
শিলিগুড়ি: ভোটমুখী বাংলায় এবার রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল নিয়েও তুমুল বিতর্ক। বাংলায় এসে রাজ্য সরকারের ভূমিকায় অসন্তোষ রাষ্ট্রপতির। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেয়নি রাজ্য। বারবার জায়গা বদল হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা ছিল তারপরেও অনুমতি দেয়নি। রাজ্য অনুমতি দেয়নি বলেই গোঁসাইপুরে সভা করলাম। হয়তো আমার উপর রাগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য শোনা গেল দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর গলাতে।
এদিন শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি মঞ্চে এলেও সার দিয়ে ফাঁকা আসন ছিল দর্শকাসন। এদিকে উদ্যোক্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন এই কনফারেন্স হবে বিধাননগরে। কিন্তু তারপরেও চারবার সভাস্থল বদল করা হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভা করার অনুমতি মেলে প্রশাসনের তরফে। কিন্তু উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, প্রচুর আমন্ত্রিত এই সভায় আসতেই পারেননি সিকিউরিটি পাস না পাওয়ার কারণে। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।
এদিকে সভা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে রাষ্ট্রপতি বলেন, এত চেয়ার ফাঁকা কেন? আমি বুঝতে পারছি কেউ বাধা দিচ্ছে। এরপরেও দমেননি রাষ্ট্রপতি। সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আগে যেখানে সভা করার কথা ছিল শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে চলে যান। সেখানে গিয়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। সেখান থেকেই বলেন, আমি তো এই এলাকাতেই সভা করতে চেয়েছিলাম। পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার আমাকে সভা করতে দিল না? এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি বলেন, উনি আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু হয়তো কোনও কারণে উনি আমার উপর রুষ্ট হয়েছেন। যে কারণে সভা করতে দিলেন না।
এদিকে অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী তো বটেই রাজ্য়ে কোনও মন্ত্রীও আসেননি। রাষ্ট্রপতি যদিও বলছেন, রাষ্ট্রপতি যখন কোনও রাজ্যে সফরে আসেন তখন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ স্বাগত জানান। এটাই রীতি। এটাই প্রোটোকল। শেষে বিধাননগরে পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় শালগাছ লাগিয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরে চলে যান তিনি।
যদিও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, রাজ্যের তরফে আমি রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাই। ডিএম এবং পুলিশ কমিশনার ছিলেন। এর আগেও প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তাঁকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তখন আমি মন্ত্রী ছিপাম নাকি মেয়র খেয়াল নেই। রাজ্যের এই তালিকা রাষ্ট্রপতি ভবন অনুমোদন দিয়েছিল। অন্যদিকে সভাস্থল নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই সভাস্থল নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল।