
শিলিগুড়ি: জ্বরে আক্রান্ত ছিল। বাড়িতেই চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু কাজ হয়নি তাতে। শেষমেশ মৃত্যু হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর। কিন্তু ততক্ষণে জ্বরেই তার পরিবারের বাকি সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাড়িতে রয়েছে বলতে কেবল ছোট বোন! তারও জ্বর। তাই বারো ঘণ্টা পার হলেও ঘরেই পড়ে থাকল কিশোরীর দেহ। বাড়িতে দেহ আগলে বসে রয়েছে তার এক ছোট বোন। সেও জ্বরে আক্রান্ত। মর্মান্তিক ঘটনা শলিগুড়ির গঙ্গানগরে। জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম নন্দিনী দাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিল নন্দিনী। সঙ্গে বেশ কিছু শারীরিক সংক্রমণ। বাড়িতে তিন বোন ও মা থাকেন। বাবা ভিন রাজ্যে কাজ করেন। নন্দিনীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। অন্যদিকে নন্দিনীর আরেক বোন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী অঞ্জলি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মা কালাকুমারি দাসও তারপর ভর্তি হন হাসপাতালে। বাড়িতে তখন নন্দিনীর দেখাশোনা করত বোন পায়েল। তার মধ্যেই মৃত্যু হয় নন্দিনীর।
কিন্তু তার সৎকার্য করার মতো লোক নেই বাড়িতে। পায়েলও অসুস্থ। এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বোন পায়েল দাস বাড়িতে একা দেহ আগলে বসে আছেন। বারো ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সৎকার্যের ব্যবস্থা করা হয়। নন্দিনীর বোন বলেন, “সকাল থেকে শরীরটা খুব খারাপ হয়ে গেল, কোনওভাবে নিয়ে গিয়েছিলাম হাসপাতালে, কিন্তু বলল ও চলে গিয়েছে। মায়েরও তো খুব জ্বর।”