
শিলিগুড়ি: গত পাঁচ বছরে হু-হু করে বাড়ছে ডিভোর্সের সংখ্যা। মিউচুয়াল ডিভোর্স ছাড়াও ছেলে বা মেয়ের তরফে ডিভোর্সের মামলার সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে শিলিগুড়িতে। আইনজীবিরা বলছেন, গড়ে দশটি মামলা দায়ের হলে এর মধ্যে ৫০ শতাংশই বিবাহ সম্পর্কিত। অন্যদিকে ম্যারেজ রেজিস্ট্রারেরা জানাচ্ছেন যে সব নতুন বিয়ে রেজিস্ট্রি হচ্ছে তার পঞ্চাশ শতাংশ ক্ষেত্রেই পাত্র বা পাত্রী ডিভোর্সি। অর্থাৎ সম্প্রতি বিয়ে ভেঙেছেন এবং ফের বিয়ে করছেন।
আইনজীবীরা হিসেব দিচ্ছেন, দিনে গড়ে ৪টি করে বিবাহ বিচ্ছেদের রায় হচ্ছে শিলিগুড়িতে। কেস ফাইলের সংখ্যা বছরে কয়েক হাজার। আদালত চাইলেও বিবাহ ভাঙতে মনস্থির করে এগোচ্ছেন অস্থিরমতি ছেলেমেয়েরা।
কেন এত ডিভোর্স?
১. আইনজীবিরা বলছেন, মুক্তমনা ছেলে-মেয়েরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর দায়িত্ব কাঁধে নিতে গিয়েই পিছুপা হচ্ছেন।
২. ছেলে-মেয়েদের সহনশীলতা অত্যন্ত কম। ফলে বিয়ে টিকছে না।
৩. শহর এলাকায় ফার্স্ট লাইফের জীবনে সংসার ধর্ম পালনে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
৪. রিল লাইফে মজে থাকা এই প্রজন্ম বাস্তব জীবনের দায়িত্ব নিতে গিয়েই মোহ ভাঙছে। তুচ্ছ তুচ্ছ কারনে বিয়ে ভাঙছেন তারা।
৫. বিয়ের আগে আধুনিক শহরে নিজেদের স্বাধীনতায় বিয়ের পর শৃঙ্খলা তৈরি হলেই সমস্যা প্রকট হচ্ছে।
৬. মোবাইল, চাকরী জীবনে খোলামেলা মেলামেশা বিয়ের পর দাম্পত্য কলহ ও ডিভোর্সের দিকে এগোচ্ছে।
আইনজীবী চিন্ময় সাহা বলেন, “আজকাল শিলিগুড়ি কোর্টে বা অন্য়ান্য আদালতে এই বিয়ে ভাঙার কেস বেড়েই চলেছে। এগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সহনশীলতা ও বোঝাপড়ার অভাব দেখা যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করি একটা সম্পর্ককে যতটা সম্ভব বুঝিয়ে সংসার জোড়া লাগাতে চেষ্টা করি। অনেকের ক্ষেত্রে সেটা কাজ করে না।”