
শিলিগুড়ি: ঘিয়ের মধ্যে মাছি। চারপাশে চরম অপরিষ্কার পরিবেশ। এমনই অভিযোগে শিলিগুড়ির সেবক রোডে ‘নামী’ একটি মিষ্টির দোকানের কারখানা সিল করে দিল শিলিগুড়ি পৌরনিগম। কারখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে পৌরনিগমের আধিকারিকরা কড়া পদক্ষেপ করেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, মিষ্টি তৈরির কারখানায় ব্যবহৃত ঘিয়ের মধ্যে মাছি পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি কারখানার ভিতরে অপরিষ্কার পরিবেশেও মিষ্টি তৈরির কাজ চলছিল বলে পৌরনিগমের অভিযানে উঠে আসে। বিষয়টি সামনে আসতেই খাদ্যের গুণমান ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ও খাবার তৈরির কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে পৌরনিগমের নজরদারি চলছে। তারই মধ্যে সেবক রোডের এই কারখানায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় কারখানার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পৌরনিগমের পক্ষ থেকে সেটি সিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন শিলিগুড়ি পৌরনিগমের কমিশনার?
ওই মিষ্টি দোকানের কারাখানায় অভিযান নিয়ে শিলিগুড়ি পৌরনিগমের কমিশনার বীরেন্দ্র রাই বলেন, “অনেক দোকানদার অভিযোগ করেন, একটা কারখানা থেকে নোংরা জল বের হয়। এর ফলে দূষণ হচ্ছে। তারপর আমরা ভিতরে গিয়ে দেখি। একাধিক জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছি। কিছু জিনিসে পোকা পাওয়া গিয়েছে। কিছু জিনিস নোংরা ছিল। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা দেখা গেল, যেখানে খাবার তৈরি হচ্ছে, তার নিচে ড্রেন রয়েছে। সেখানে নোংরা জমা হচ্ছে। জল বের হচ্ছে না। গন্ধ হচ্ছে। সেখানেই খাবার বানানো হচ্ছে। ওই কারখানার ওই অংশটাকে সিল করা হচ্ছে। শোকজ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে খাবার বানানো হচ্ছে, সেগুলি দেখা। এবং অস্বাস্থ্যকর কিছু দেখলে পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।”
পৌরনিগমের এই অভিযানের পর প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কীভাবে মিষ্টি তৈরির কাজ চলছিল? সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে শহরের আরও বিভিন্ন মিষ্টির কারখানা ও খাবার তৈরির জায়গায় অভিযান চালানো হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর।