
শিলিগুড়ি: তৃণমূল নেতারদের ঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালীর স্কুল চুরি ঠেকালেন তৃণমূল নেতাই। শিলিগুড়ির চাঁদমণি টি এস্টেট জুনিয়ার বেসিক স্কুলের নতুন ভবনের ‘রহস্য’ উন্মোচনের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ভোলা ঘোষ। গত মঙ্গলবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে ই-মেলে চিঠি পাঠান। এরপরেই আজ বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি ওই সরকারি স্কুল ভবন আজ ভেঙে দেওয়া হয়।
কী হয়েছিল?
চাঁদমণিতে ১৯৫৭ সালে তৈরি হয়েছিল চাঁদমণি অরাইমারি স্কুল। রাস্তার ধারে ছয় বিঘা জমির উপরে চলত এই স্কুল। সেই জমিতে নজর পরে অসাধু চক্রের বলে খবর। এরপরেই একটি বেসরকারি সংস্থা নিজেদের উদ্যোগে মূল যে জমিতে স্কুল, তার থেকে কিছু দূরে দোতলা স্কুল নির্মাণ করে। মূল স্কুলকে নতুন ভবনে সরানোর উদ্যোগ শুরু হয়। ঘটনা সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়। এলাকার তৃণমূল নেতাদের দাবি, স্কুলটিকে নতুন জায়গায় সরাতে পারলেই কেল্লাফতে! সরকারি জায়গা দখল হয়ে যেত।
এরপর মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি ভোলা ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যসচিব, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার, শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসজেডিএ) চেয়ারম্যান, মুখ্য কার্যনিবাহী আধিকারিককেও চিঠি দিয়ে সব জানান।
এরপরেই তদন্ত করে দেখা যায়, নতুন যে ভবন নির্মাণ হয়েছে সেটিও সরকারি জমি দখল করেই হয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থাকে নোটিস দেওয়া হয়। এর মালিকানা যাঁদের হাতে রয়েছে তাঁরা তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী বলে অভিযোগ।
গত ১৭ জানুয়ারি ওই ভবন ভেঙে ফেলার জন্য নোটিস ইস্যু করে এসজেডিএ। সাতদিনের মধ্যে ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ভবন ভাঙেনি নির্মানকারী সংস্থা। এরপর আজ প্রশাসনের তরফে বেআইনি ভবন ভেঙে দেওয়া হয়।এ দিন, ভোলা ঘোষ বলেন, “শুধু নির্মান ভাঙলে হবে না। কারা এ কাজ করেছিল, তাদের গ্রেফতার চেয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছি।”