
শিলিগুড়ি: পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতা, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। গ্রেফতার হচ্ছেন অনেকে। অভিযোগ, তৃণমূল আমলে দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়েছিল শিলিগুড়ি প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলেও। ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার সরকারি চেক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে। তদন্তে নেমে দুই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনও পলাতক মূল অভিযুক্ত।
কীভাবে হত দুর্নীতি?
দুর্নীতির ধরন দেখে চমকে গিয়েছে পুলিশও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি চেকে টাকার অঙ্ক পরিবর্তন, নকল স্বাক্ষর ও প্রাপকের নাম বদল করে গত এক বছরে ১২টি লেনদেনের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, একটি প্রকাশনা সংস্থার ১৪,২৪০ টাকার চেক কারচুপি করে ৯ লক্ষ ১৪ হাজার ২৪০ টাকা তোলা হয়েছিল। ব্যাঙ্ক লেনদেনের সূত্র ধরে আলপনা সাহা ও প্রতিমা সরকার নামে দুই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন তাঁদের পুলিশ গ্রেফতার করার পর সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি ধৃত দুই মহিলা। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে পুলিশের গাড়িতে উঠে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার মূল অভিযুক্ত প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের একজন পেনশন ক্লার্ক। তাঁর নাম রঞ্জন দত্ত। অভিযোগ সামনে আসার পরই গা ঢাকা দেন প্রধান অভিযুক্ত। দুই মহিলাকে গ্রেফতার করতে পারলেও মূল অভিযুক্তের এখনও নাগাল পায়নি পুলিশ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, রঞ্জন দত্ত ধরা পড়লে শিলিগুড়ি প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলে সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা তছরুপের ঘটনায় অনেক তথ্য সামনে আসবে। সেক্ষেত্রে বড় কোনও নাম উঠে আসে কি না, সেটাই দেখার।