Khalsi Village Problem: গ্রাম আছে, গ্রামবাসীও আছে! তবু সরকারি খাতায় অস্তিত্ব নেই খলসীর… জনগণনায় কী হবে?

Census 2026: গ্রামবাসীদের বক্তব্য, যে গ্রামে তারা বসবাস করেন, সেই গ্রামকে কখনও পাড়া, কখনও রাস্তা, আবার কখনও কোনও বিল্ডিং-এর নামে পরিচিত হতে হচ্ছে। তাই গ্রামবাসীরা চাইছেন জনগণনার কাজ যখন শুরু হয়েছে, তাদের গ্রামের নামে সরকারি সিলমোহর দেওয়া হোক।

Khalsi Village Problem: গ্রাম আছে, গ্রামবাসীও আছে! তবু সরকারি খাতায় অস্তিত্ব নেই খলসীর... জনগণনায় কী হবে?
এই গ্রামের অস্তিত্বই নেই সরকারি খাতায়।Image Credit source: TV9 বাংলা

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Aug 08, 2026 | 12:36 PM

হুগলি: গ্রাম আছে, গ্রামবাসীরা আছেন,অথচ সরকারি খাতায় গ্রামের অস্তিত্ব নেই! জনগণনা শুরু হতে অস্তিত্ব সঙ্কটে হুগলির গ্রাম। কী হবে বাসিন্দাদের? তারা কি দেশের জনগণ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে না?

হুগলির বলাগড় বিধানসভার চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৮ টি গ্রাম আছে। তার মধ্যে একটি গ্রাম হল “খলসী”। এই গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ২২০০। এর মধ্যে ভোটারের সংখ্যা ১২০০। পঞ্চায়েতের বাকি ১৭টি গ্রামের সেনসাস কোড আছে। সরকারি খাতায় নাম আছে। নেই শুধু খলসী গ্রামের নামই।

এর ফলে সরকারি কাজ, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র, আধার কার্ডে নিজের গ্রামের নাম তুলতে পারেন না গ্রামবাসীরা। চিঠি বা পার্সেল এলেও, তা এক কিলোমিটার দূরে দিগসুই গ্রামের ঠিকানায় আসে। অনেক সময় তা ফিরেও যায়।

এখন জনগণনা শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সেল্ফ এনুমারেশনের কাজ চলছে। সেই কাজ করতে গিয়ে সেনসাস পোর্টালে নিজেদের গ্রামের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না খলসী গ্রামের বাসিন্দারা। এরপরই সবাই মিলে সরকারি মহলে এই বিষয় নিয়ে চিঠি দিয়ে আবেদন করেন।

গ্রাম, পোস্ট অফিস, থানা, জেলা পিনকোড দিয়ে যে ঠিকানা লেখা হয়, সেই ঠিকানায় সরকারি রেকর্ডে খলসী গ্রাম না থাকায়, নিজের গ্রামের নাম সরকারি জায়গায় তুলতে বিডিও, এসডিও, ডিএম থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীদের বক্তব্য, যে গ্রামে তারা বসবাস করেন, সেই গ্রামকে কখনও পাড়া, কখনও রাস্তা, আবার কখনও কোনও বিল্ডিং-এর নামে পরিচিত হতে হচ্ছে। তাই গ্রামবাসীরা চাইছেন জনগণনার কাজ যখন শুরু হয়েছে, তাদের গ্রামের নামে সরকারি সিলমোহর দেওয়া হোক।

গ্রামেরই এক বাসিন্দা প্রশান্ত ঘোষ বলেন, “ঠিকানায় পিন কোড দেখে, গ্রামের নাম খুঁজে না পেয়ে অনেক সময় চিঠিপত্র ফিরে চলে যায়। চিঠি এসেছে জানতে পারলে, পাশের গ্রাম থেকে নিয়ে আসতে হয়। সরকারি পোর্টাল থেকে আমাদের গ্রামের নাম পুরোপুরি বাদ হয়ে গিয়েছে। আমরা বেশ কিছুদিন আগেই বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি। ভোটার কার্ড নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেটাকে মেটানো হয়েছিল। এবার জনগণনা শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে আমাদের গ্রামের নাম নেই। পাশের গ্রাম দিগসুই-এএ আমাদের গ্রামকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

গ্রামের আরেক বাসিন্দা অপূর্ব ঘোষের সন্তান জন্মায় আট মাস আগে, চুঁচুড়া হাসপাতালে। তাঁর জন্মের শংসাপত্র দেওয়ার সময় খলসী গ্রামের নাম আসেনি। এরপরই তাঁরা খোঁজ-খবর করেন। তাদের বক্তব্য, যতক্ষণ না সরকারি পোর্টালে স্বতন্ত্র গ্রাম হিসাবে খলসীকে দেখানো হচ্ছে, ততক্ষণ এই সমস্যা চলবে। যত দিন যাচ্ছে, সবকিছু ডিজিটালাইজড হচ্ছে, তাতেই সমস্যা আরও বাড়ছে। এটা হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা কোনও গ্রাম নয়। তা সত্ত্বেও সেই গ্রামের অস্তিত্ব সরকারি জায়গায় নেই, কেন সেটাই প্রশ্ন।

হুগলি জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরী এই বিষয়ে বলেন, “ম্যাপ নিয়ে সমস্যা আছে। একটা প্রযুক্তিগত ত্রুটি আছে। ওই গ্রামকে ম্যাপিং করতে হবে। এই বিষয়ে সেনসাসের ডিরেক্টরকে জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত ম্যাপিং হয়ে যাবে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us