
জলপাইগুড়ি: প্রশাসক সরিয়ে নির্বাচিত বোর্ডকেই ফের জলপাইগুড়ি পৌরসভা পরিচালনার দায়িত্ব দিল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। গত ৩০ অগস্ট সরকারি নির্দেশে জলপাইগুড়ি পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেন সদর মহকুমাশাসক মইম আহমেদ। সরকারি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন কালীঘাটপন্থী ১৬ জন কাউন্সিলর। সেই মামলাতেই মঙ্গলবার পৌরসভায় প্রশাসক বসানোর সরকারি নির্দেশকে বাতিল করল জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। সেই সঙ্গে আগামী তিন দিনের মধ্যে বোর্ড অব কাউন্সিলর গঠন করে পৌরসভা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি রাজা বোসচৌধুরী।
গত ৩০ জুলাই জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কাউন্সিলররা। তার পর থেকেই পৌরসভার সাফাই কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের আন্দোলনের জেরে একপ্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় পৌরসভায়। ওই পরিস্থিতি নিয়ে সদর মহকুমাশাসকের এক গোপন রিপোর্টের ভিত্তিতে পৌরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলরকে শোকজ করে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। ৫ দিনের মধ্যে শোকজের উত্তর চাওয়ার পাশাপাশি অচলাবস্থার সমাধান করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতেও বলা হয়।
ওই রিপোর্ট না পেয়ে দফতরের পক্ষ থেকে ফের বোর্ড অব কাউন্সিলরকে চিঠি ধরিয়ে ওই পরিপ্রেক্ষিতে কেন পৌরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়। এই অবস্থা চলাকালীন গত ২৭ অগস্ট আস্থা ভোটের দিন সকালেই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। আবার ওই দিন বিকেলেই পৌরসভা বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসায় পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। সরকারি ওই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক দাবি করে গত ৩১ অগস্ট আদালতের দ্বারস্থ হন মমতাপন্থী কাউন্সিলররা।
কী বললেন মামলাকারীদের আইনজীবী?
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী বিক্রমাদিত্য ঘোষ জানান, বিচারপতি প্রশাসক নিয়োগকে অবৈধ বলেছেন। পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ার আগে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে বোর্ড অব কাউন্সিলরকে শোকজ করা হয় এবং যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা শুধরে নিয়ে ৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু রাজ্য সরকারের রিপোর্ট অনুসারে সেই ৫ দিন পরও যখন অচলাবস্থার উন্নতি হয়নি তখন আবার শোকজ করে এবং তিন দিন পর পুর বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসায়। কিন্তু আদালত বলছে, যে জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের রিপোর্টের ভিত্তিতে শোকজ করা হয়েছিল, সেই কমিউনিকেশন রিপোর্ট কাউন্সিলরদের দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি। আর প্রথম শোকজ এবং দ্বিতীয় শোকজের সময়সীমা কম দেওয়া হয়েছিল। এই দুই গ্রাউন্ডে আদালত পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং প্রশাসক বাসানোর সরকারি ওই নির্দেশকে বাতিল করেছে আদালত।
কী বলছে কালীঘাট তৃণমূল?
আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে এদিকে মমতাপন্থী তৃণমূলের কাউন্সিলর তপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, “সত্যের জয় হল। আমরা প্রথম থেকেই বলেছি, প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ। আদালতের রায়ে সেটাই প্রমাণিত হল। আমরাই বোর্ড চালাব।” তবে চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে তিনি এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাইলেন না। এদিকে পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।