
জলপাইগুড়ি: ২০১৯ সালে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান শ্যামলচন্দ্র পাল। নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তবে পুলিশ খুঁজে পায়নি তাঁকে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটে। বছরও ঘুরে যায়। কোনও খবর আসে না। অপেক্ষায় থাকেন স্ত্রী। ২ বছর পর হঠাৎ খবর স্ত্রীর কাছে খবর যায়, বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি হয়ে আছেন তাঁর স্বামী। শুরু হয় খোঁজ।
স্বামীর খোঁজ পেতে জেল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন স্ত্রী। কিন্তু জানতে পারেন স্বামীর নামটাই বদলে গিয়েছে! জেলের রেকর্ডে ওই ব্যক্তি ছিলেন হীরালাল চন্দ্র পাল, ঠিকানা- ডেলট, টাঙাইল, বাংলাদেশ। এ কথা জানতে পেরে অবাক হয়ে যান স্ত্রী। তিনি চিহ্নিত করেন যে ওই ব্যক্তিই আসলে তাঁর স্ত্রী শ্যামলচন্দ্র পাল। বাংলাদেশি বলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল তাঁকে।
এরপর হাইকোর্টে আবেদন করেন শ্যামলচন্দ্রের স্ত্রী। আদালতের নির্দেশ মেনে আইজি কারা পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু সেখানেও জটিলতা। ওই ব্যক্তির আইনজীবী হিসেবে যাঁর সওয়াল করার কথা ছিল, তিনি দিনের পর দিন আদালতে হাজির হন না। অবশেষে তাঁর জন্য অ্য়ামিকাস কিউরি বা আদালত বান্ধব আইনজীবীর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর চলে মামলা। সরকারপক্ষের আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন, অনিরুদ্ধ বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, জেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছে। কোর্টে সেই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।
আদালত বান্ধব আইনজীবী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শ্যামলচন্দ্র পাল নামে ওই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই তিনি তাঁর নাম বা ঠিকানা কোনওটাই ঠিকভাবে দিতে পারেননি। সেই কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। আজ, আদালত রিপোর্ট দেখার পর অবিলম্বে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যেই বহরমপুরের জেলে ৬ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ওই ব্যক্তি।