
জলপাইগুড়ি: তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিল চা শ্রমিকেরা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু রাজনৈতিক তরজা। বৃহস্পতিবার ছিল মহত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবস।আর এই উপলক্ষে কংগ্রেস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন INTUC উদ্যোগে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের হাতিমোড় সংলগ্ন এলাকায় জাতির জনকের প্রয়ান দিবস পালনের এক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা জেলা কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার এবং রাজগঞ্জ ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি দেবব্রত নাগের হাত ধরে শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৬০ জন শ্রমিক তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসের যোগদান করেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
যোগদানকারী শ্রমিক শশী মোহন রায় বলেন, “আমাদের চা বাগান বন্ধ করে দেয় মালিক। আমরা ৯ মাস কর্মহীন হয়ে ছিলাম।এরপর তৃণমূল নেতাদের কথায় আমরা চা বাগানে গিয়ে পাতা তুলি। সেই পাতা লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি হয়। টাকা নিয়ে যায় তৃণমূল নেতা।এরপর পুলিশ এসে আমাদের উপর অত্যাচার করে। আমদের পাশে দল থাকেনি। তাই আমরা আজ কংগ্রেসে যোগদান করলাম।”
কংগ্রেস নেতা দেবব্রত নাগ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ৬০ জন শ্রমিক কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। কংগ্রেসে যোগদান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দল ছেড়ে কংগ্রেসের যোগদান করলেও আমরা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ভয়ে তা প্রচারের আলোয় আনি না।”
প্রদেশ কংগ্রেস নেতা নির্মল ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই আইনি সাহায্য করা হবে।
ঘটনায় তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিকাশ মালাকার বলেন, “কংগ্রেস নেতা দেবু নাগ বাম আমলে সিপিএমের হাতে তামাক খেয়ে রাজগঞ্জ ব্লকের অনেক চা বাগান মালিকের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন।অনেক মালিক বাগান ছেড়ে পালিয়েছেন।এখন তারা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাই এসব নাটক হচ্ছে।”