
জলপাইগুড়ি: ৫১ ফুটের সরস্বতী এবং ২২ ফুটের রাম লালা নিরঞ্জন করতে ফাঁপড়ে পড়েছেন জলপাইগুড়ির দুই পুজো উদ্যোক্তারা। এই খবর তুলে ধরেছিল টিভি-৯ বাংলা। অবশেষে নিরঞ্জন হল ৫১ ফুটের সরস্বতী প্রতিমা। শুক্রবার বিকালে থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হোস পাইপ দিয়ে লাগাতার ৩ গাড়ি জল ঢেলে সরস্বতী প্রতিমাটিকে গলিয়ে ফেলেন জলপাইগুড়ির দমকল কর্মীরা। তবে এদিন নিরঞ্জন হয়নি রাম লালার। দিনক্ষণ ঠিক করার পরেই ২২ ফুটের সেই রাম লালা নিরঞ্জন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
সরস্বতী পুজোয় স্টুডেন্টস অফ জলপাইগুড়ি নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ি শহরের অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোমস্ত পাড়ায় তৈরি করা হয়েছিল ৫১ ফুটের সরস্বতী। তিন দিন ধরে মহাসমারোহে চলে পুজো। প্রতিমা দেখতে প্রচুর মানুষের ভিড়ও হয়। কিন্তু, প্রতিমা নিরঞ্জনের পালা এলেই সমস্যায় পড়েন উদ্যোক্তারা। এতবড় মূর্তি উঠিয়ে নদীতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। শেষে পুজো উদ্যোক্তারা জেলাশাসকের কাছে প্রতিমা নিরঞ্জন সংক্রান্ত অসুবিধার কারণ জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে লিখিত আবেদন করেন। তাঁদের অসুবিধার কথা বুঝতে পারেন জেলাশাসক।
জেলাশাকের নির্দেশ পেয়ে নড়েচড়ে বসে দমকল। এরপর দমকলের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এদিন জল দিয়ে সরস্বতী প্রতিমা গলিয়ে নিরঞ্জন করে দেন দমকল কর্মীরা। দৃশ্য মোবাইল বন্দি করেন বহু মানুষ। স্টুডেন্ট অফ জলপাইগুড়ির সভাপতি প্রিতম ঘোষ বলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য প্রশাসনের দারস্থ হয়েছিলাম। গতকাল নিরঞ্জনের অর্ডার হয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুবিধা হবে বলে আজকে পরীক্ষা শেষে পুলিশ প্রশাসনের উপিস্থিতে দমকল কর্মীরা এসে জল দিয়ে প্রতিমা গলিয়ে দেয়।
অরবিন্দ গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান রাজেশ মণ্ডল বলেন, এত বড় প্রতিমা নদীতে নিয়ে গিয়ে নিরঞ্জন করা সম্ভব নয়। তাই দমকলের সাহায্যে এখানেই প্রতিমা গলিয়ে দেওয়া হল। দমকল আধিকারিক রামেশ্বর পান্ডে বলেন, আমাদের কাছে শহরের দুটি বড় প্রতিমা জল দিয়ে গলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ। আজ সরস্বতী প্রতিমা গলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার রাম মূর্তিও গলিয়ে দেওয়া হবে।