
নদিয়া: কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) মানেই সরপুরিয়া। কৃষ্ণনগর মানে মাটির পুতুলও। বর্তমান যুগে শৈশব থেকে কার্যত হারিয়ে যাচ্ছে পুতুল খেলা। তবে, মাটির পুতুল কিন্তু ঐতিহ্য হারায়নি। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল (Krishnanagar Clay Doll) জগৎ বিখ্যাত। শিল্পীদের হাতের তৈরি পুতুল পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। এবার সেই মাটির পুতুল পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দিন কয়েক আগেই জিআই ট্যাগ পেয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর কাঠের পুতুল। এবার কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মাটির পুতুলকেও জিআই (GI) স্বীকৃতি দেওয়া হল। স্বাভাবিকভাবেই খুশির জোয়ার গোটা জেলা জুড়ে।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের শহর কৃষ্ণনগরের আনাচে-কানাচে শুধুই ঐতিহ্য আর ইতিহাস। মৃৎশিল্পের আঁতুড়ঘর কৃষ্ণনগর। ঘূর্ণিতে গেলে শুধুই চোখে পড়বে শিল্পীদের শিল্পকলা। হাতে তৈরি মাটির হরেক রকমের পুতুল। যা পাড়ি দেয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। শিল্পীর হাতের জাদুতে মনে হবে পুতুল যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। কথিত রয়েছে, কৃষ্ণনগরের এক মৃৎশিল্পীর তৈরি গবাদি পশুকে জীবন্ত মনে করে মাটিতে নেমে এসেছিল এক ঝাঁক শকুনের এর দল। সেই শিল্পী পরে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কারও পেয়েছিলেন। সেই শিল্পকলা স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশি ঘূর্ণির শিল্পীরা।
কৃষ্ণনগরের পুতুলের জিআই স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছেন মৃৎশিল্পী সুবীর পাল। স্বীকৃতি পাওয়ার পর তিনি বলেন, “আজ আমরা খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত। কারণ জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য অনেক লড়াই করেছি। আজ স্বপ্নপূরণ হল। স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে পুতুলের চাহিদা আরও বাড়বে।” তাঁর মতে, একদিকে যেমন শিল্পীদের পরিচিতি বাড়বে, অন্যদিকে মুনাফা হবে ব্যবসায়। শিল্পী আরও জানিয়েছেন, এখন থেকে কৃষ্ণনগরের পুতুল আর কেউ নকল করতে পারবে না। কারণ বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে অন্যান্য জায়গার তৈরি পুতুল কৃষ্ণনগরের পুতুল নামে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। জিআই স্বীকৃতির জন্য কালোবাজারিও বন্ধ হবে।
প্রসঙ্গত, হুগলির জলভরা সন্দেশ, মনোহরা মিষ্টি জিআই ট্যাগ পেয়েছে। আবার জি আই স্বীকৃতি পেয়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস ও পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর কাঠের পুতুল। শিল্পীদের আশা, জিআই স্বীকৃতি পেলে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।