Bengal Olympic Fund Scam: মেসি থেকে ‘অলিম্পিক’, আন্তর্জাতিক স্তরে ‘খেলা’ দেখালেন অরূপ-স্বরূপ

Corruption Allegations against Arup and Swarup Biswas: অ্যাথলিটদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, তাঁদের পানীয় জল থেকে শুরু করে খাবার দেওয়া, থাকতে দেওয়া সবেতেই চরম দুরাবস্থার অভিযোগ ওঠে। অনেক অ্যাথলিট ছেড়েও চলে যান বলে অভিযোগ। অনেক অ্যাথলিটকে স্থানীয় স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেখানে মশার উপদ্রব এবং স্নান ও শৌচাগারে পর্যাপ্ত জলের অভাব নিয়ে খেলোয়াড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

Bengal Olympic Fund Scam: মেসি থেকে অলিম্পিক, আন্তর্জাতিক স্তরে খেলা দেখালেন অরূপ-স্বরূপ
কী অভিযোগ অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jun 10, 2026 | 5:34 PM

মালদা: টলিউড থেকে খেলাধূলা। পুরোটাই ছিল তাঁদের হাতের মুঠোয়। বাংলায় বিশ্বাস ব্রাদার্স কি ‘তোলা’ নেওয়ার ‘ব্যবসা’ ফেঁদে বসেছিলেন? যত দিন যাচ্ছে বিশ্বাস ব্রাদার্স অরূপ ও স্বরূপকে নিয়ে এই প্রশ্ন উঠছে। লিওনেল মেসিকে নিয়ে বিতর্কে দাদার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ভাই গ্রেফতার হয়েছেন। এবার বেঙ্গল অলিম্পিকের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। সরাসরি এই অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত তদন্ত শুরু করার জন্যে আবেদন জানাচ্ছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে বাম থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক দলই তদন্তের দাবি তুলেছে। মোটা টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে মালদহ ডিএসএ-ও।

বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (BOA)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ৯ম নেতাজি সুভাষ স্টেট গেমস ২০২৫ (যা বেঙ্গল অলিম্পিক নামে পরিচিত) মালদহ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মালদহের ইতিহাসে এই প্রথমবার এত বড় রাজ্য স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর বসে। জেলায় এই গেমসটি গত বছরের ৭ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪ দিন ধরে চলে।

মূল গেমস শুরু হওয়ার আগে গত বছরের ২৭ মার্চ কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০,০০০-এর বেশি অ্যাথলিট ও ক্রীড়াবিদ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মোট ৩৬টি ভিন্ন বিভাগে (যেমন- অ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, বাস্কেটবল, রাগবি, সুইমিং, যোগাসন ইত্যাদি) প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই ইভেন্টটি বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনায় এবং মালদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা (DSA) ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়।

এই গেমসে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আগেও উঠেছিল। অ্যাথলিটদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, তাঁদের পানীয় জল থেকে শুরু করে খাবার দেওয়া, থাকতে দেওয়া সবেতেই চরম দুরাবস্থার অভিযোগ ওঠে। অনেক অ্যাথলিট ছেড়েও চলে যান বলে অভিযোগ। অনেক অ্যাথলিটকে স্থানীয় স্কুলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেখানে মশার উপদ্রব এবং স্নান ও শৌচাগারে পর্যাপ্ত জলের অভাব নিয়ে খেলোয়াড়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

অথচ আয়োজনের জন্যে ৫০ লক্ষের বেশি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরে মাত্র সাড়ে সাত লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেই দাবি। পুরো টাকাটাই আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে হোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে, আলো, ক্যামেরা, মঞ্চ সহ যাবতীয় বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা স্বংস্থা তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়।পরে তাঁদের অনেককে পাওনা টাকা মেটানো হয়। কিন্তু সেই টাকাও আবার ইংরেজবাজার পৌরসভার থেকেও তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের। তাদের প্রশ্ন, তৃণমূলের নেতা মন্ত্রী টাকা আত্মসাৎ করবে আর সেই টাকা মানুষের করের টাকা থেকে কেন তোলা হবে?

কী বলছেন ডিএসএ-র সম্পাদক?

ডিএসএ-র সম্পাদক তথা ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন আর্থিক কেলেঙ্কারির কথা। টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেন, “চিঠি দেওয়া-সহ যেসব নথি চেয়েছিল, সব দিয়েছিলাম। তারপরও টাকাও পাইনি। মাত্র সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা পেয়েছিলাম। আরও কোনও টাকা পাইনি।” তিনি জানান, স্বরূপ বিশ্বাস বেঙ্গল অলিম্পিক একজন কর্মকর্তা হিসেবে জেলায় এসেছিলেন।

কী বলছে বিজেপি?

অরূপ ও স্বরূপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, “ওদের দুই ভাইয়ের একজনের কাজ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানো আর অন্যজনের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানো। টলিউড থেকে শুরু করে খেলাধুলোয়, যেখানে যেখানে এই দুই ভাই গিয়েছেন, সেখানে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মাথার উপর হাত ছিল মমতা ও অভিষেকের। এতদিন কিছু হয়নি। এরা এত দুর্নীতি করেছে যে নিজেরাও জানে না কত টাকা রয়েছে।” এরপরই তিনি জানান, “বেঙ্গল অলিম্পিকে দুর্নীতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা জানাব। অন্য অভিযোগগুলির সঙ্গে যাতে এটা যোগ করা যায় কি না, সেটা দেখতে অনুরোধ করব।” সিপিএমের মালদহ শহর কমিটির সম্পাদক শুভজিৎ মিত্রও ওই দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

Follow Us