
মালদহ: মালদহ জেলায় বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় শুধু বিরোধী শিবির নয়, খোদ বিজেপির অন্দরেই চরম শোরগোল ও গোষ্ঠী কোন্দল শুরু হয়েছে। ইংরেজবাজারের বিধানসভার চিফ হুইপ তথা বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি এবং বিজেপির মালদা জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় দুজনেই এই বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন যে, তাঁর নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মোটা অঙ্কের তোলাবাজি চলছে এবং এই বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট খবরও রয়েছে। দলের মধ্যে এই কারণে গোষ্ঠী কোন্দল তৈরি হলে তা শীর্ষ নেতৃত্বকেই মেটাতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ, দলেরই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি তৃণমূলের কিছু জনপ্রতিনিধি (পুরসভা ও জেলা পরিষদের) সঙ্গে গোপন আঁতাত গড়ে তুলে এই তোলাবাজি চালাচ্ছে।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল ও অভিযোগকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে শাসকদল। সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়িকা তথা রাজ্য মহিলা সভানেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কটাক্ষ করে বলেন, “ব্লক অফিস থেকে থানা—সর্বত্র বিজেপির তোলাবাজি চলছে। তোলাবাজির জন্যই একসময় এ রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলেও, এখন বিজেপির নেতারা তার থেকেও ১০ শতাংশ বেশি তোলাবাজি করছে এবং এক বছরের মধ্যেই এদের আসল চেহারা মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে।”
এই ঘটনায় বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।