
মালদহ: এবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজে বিস্ফোরক অভিযোগ। হাসপাতালেই অস্থায়ী কর্মীকে লাগাতার ধর্ষণ। চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ভয় দেখিয়ে ওই মহিলাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক সুপার ভাইজারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর তিরিশের নির্যাতিতা মহিলা মালদহ মেডিক্যালের অস্থায়ী কর্মী। গত রবিবার তিনি ইংরেজবাজার থানায় তাঁর সুপার ভাইজারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সুপার ভাইজার মালদা মেডিক্যালে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করায়। তারপর সোমবার বিকেলে অভিযুক্ত সুপার ভাইজারকে গ্রেফতার করে।
বছর বিয়াল্লিশের ওই ধৃতের বাড়ি মালদহ শহরের পুরাটুলি এলাকায়। নির্যাতিতাকে যে সংস্থা ওই হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেছিল, সেই সংস্থাতেই কাজ করেন অভিযুক্ত। এবং ওই সংস্থারই হাসপাতালের সুপার ভাইজার তিনি। ধৃতকে এদিন মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
ধৃতের বিরুদ্ধে এর আগেও হাসপাতালে দাদাগিরি, মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট যে বেসরকারি স্বংস্থা এই হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছে, তার মালদার ইনচার্জ অরিন্দম মৈত্র আবার প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তৃণমূলের জেলার বিভিন্ন নেতা থেকে শুরু করে রাজ্যের শীর্ষস্তরের নেতা পর্যন্ত তাঁর যোগাযোগ ছিল বলেই শোনা যায়। আর ধৃত ব্যক্তি এই অরিন্দম মৈত্রের খুব ঘনিষ্ঠ। যে কারণে কেউ সাহস করে অভিযোগ জানানো কিংবা প্রতিবাদ করে উঠতে পারেননি। যদিও ফোনে অরিন্দম মৈত্র জানান, ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে আলাদা করে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নেই। এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি জেনেছে। পুলিশ তার মতো কাজ করবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।