
মালদহ: দশ বছরের এক ছাত্রী। তার মুণ্ড কেটে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল পাশের বাড়ির ছাদে। আর ঝোপে জঙ্গল। বুধবার মধ্যরাতে ভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে ছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড দেহ। মালদহের এই ঘটনার নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছে গোটা বাংলা। রাত পুহিয়ে আজ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন। কিন্তু আজও আতঙ্কে কাটিয়ে উঠতে পারেনি মালদহের সেই এলাকা। শুধু ওই এলাকা নয়। গোটা এলাকা জুড়ে আতঙ্ক।
বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘর ছেড়ে বেরোচ্ছেন না। অনেকে নিজের ছেলে মেয়ে নিয়ে আতঙ্কিত।
স্কুলে পাঠাতে পারছেন না, এমনকি ছেলেমেয়েদের পার্কেও খেলতে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। ঘরবন্দি দশা বেশ কিছু এলাকায় বহু পরিবারের। আজকেও বহু দোকান খোলেনি। খুলতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নাবালিকা খুনের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। আর সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই একেবারে ‘দাদাগিরি’তে নেমেছে এক পক্ষ।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মালদহ শহরের বিভিন্ন বাজার জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। আজকেও দোকান বন্ধ রাখার হুমকি শুনতে হয়। এমনকি পথ চলতি মানুষকেও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন। পুলিশ সুপারকেও জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি এমন হওয়ায় মাঠে নেমেছেন বেশ কিছু সমাজসেবী। নিজেরা একত্রিত হয়ে পালটা লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, রুখে না দাঁড়ালে উপায় নেই। মাদক পাচার চক্র-সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ কর্মের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে উত্তর বালুরচর এলাকা। বিশেষ করে ৮ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড। মূল অভিযুক্ত যে গ্রেফতার হয়েছে সেও মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
আর সেকারণেই মানুষকে ভয় দেখিয়ে সন্ত্রস্ত করে রাখতে চাইছেন তাঁরা। বাধা দেওয়া হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমকেও। যেন কান টানলে মাথা বেরিয়ে পড়ে! মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই যথেষ্ট আতঙ্কিত পরীক্ষার্থীরা। আতঙ্কিত অভিভাবকরাও।