
চাঁচল: ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটে (Panchayet Election Ticket) দেদার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছিল পদও! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত শিবিরের চাঁচলের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (Prasun Banerjee)। শুধু তাই নয়, ফের একবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তিনি। বিধায়কের অভিযোগ অভিষেকের (Abhishek Banerjee) অঙ্গুলি হেলনেই এই টিকিট বিক্রি হয়েছিল। নবজোয়ার কর্মসূচির আড়ালে আইপ্যাকের সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের যোগসাজসেই সবটা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবার তিন বছর আগের পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রির অভিযোগের তদন্তও হবে বলে জানিয়ে দিলেন প্রসূন।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে সামনে রেখে জেলায় জেলায় প্রস্তুতি সভা করছে ঋতব্রত তৃণমূল। রবিবার মালদহে চাঁচলের থানাপাড়ায় একটি প্রস্তুতি সভা ছিল। সভার নেতৃত্বে ছিলেন ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা চাঁচলের বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সভায় তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রির অভিযোগ। প্রসূনের অভিযোগ, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে আইপ্যাক ও ক্যামাক স্ট্রিটের যোগসাজসে বিক্রি হয়েছে টিকিট। তিনি বলেন, চুরি হয়নি, ডাকাতি হয়েছিল সেইবার। একাংশ নেতার কাছে ব্যবসার জায়গা ছিল পঞ্চায়েত ভোট। টাকার বিনিময়ে টিকিট, পরে পঞ্চায়েতে পদ পেতেও টাকা দিতে হয়েছিল। যাঁর টাকা ছিল না, তাঁর জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগও ছিল না মালদহে।” শুধু মালদহ নয়, রাজ্যজুড়েই টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
মালদহে পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রসূন বলেন, “২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যাঁরা জেলার টিকিট দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা টিকিট বিক্রি করেছিলেন, সেটা মালদহ জেলার বাচ্চারা পর্যন্ত জানেন। অসংখ্য দলের কর্মী যাঁদের অর্থ দিয়ে টিকিট কেনার ক্ষমতা ছিল না, বা টাকার বিনিময়ে টিকিট কেনার মানসিকতার বিপক্ষে ছিলেন, তাঁরা ২৩-এর পরে দলে থাকলেন ঠিকই, কিন্তু মনটা আর থাকল না।”
পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, এবার তার তদন্ত হবে বলে জানিয়ে দিলেন চাঁচলের বিধায়ক। বলেন, “আমাদের দল তদন্ত কমিটি গঠন করবে। ২১ জুলাইয়ের পর এই বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব।… তদন্ত কমিটিতে আইনজীবী, বিধায়করা থাকবেন। তদন্তের পর তাঁরা এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠানো হবে দলের চেয়ারম্যান ও রাজ্য সভাপতিকে।” তাঁর আরও দাবি, পরবর্তী পঞ্চায়েত ভোটে স্বচ্ছভাবে কর্মীদেরই টিকিট দেওয়া হবে।