
মালদহ: দীর্ঘ আইনি লড়াই। ঠিক এক বছর পরে দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরলেন সুইটি বিবি। বীরভূমের পাইকর গ্রামের আরও চারজনও ফিরেছেন এদিন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সোনালি বিবির স্বামী। সোনালিকেও বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।
বুধবার দুপুরে মালদহের মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরেছেন সুইটি বিবিরা। দীর্ঘ এক বছর পরে দিদি, ভাগ্নেদের ফিরে পেয়ে স্বস্তিতে পরিবার। গত বছর জুন মাসে দিল্লি পুলিশ সুইটিদের আটক করে অসমের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তারপর থেকেই বাংলাদেশের জেলে বন্দি ছিলেন তাঁরা।
পরে এই পুশব্যাক নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত বছর ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন বীরভূমের সুনালি বিবি। তবে সুনালির স্বামীকে সেই সময় ফেরানো সম্ভব হয়নি। এদিন সুইটি তাঁর নাবালক দুই সন্তান এবং সুনালির স্বামী দানেশ শেখ দেশে ফিরেছেন।
কাজের সন্ধানে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সোনালি বিবি ও সুইটি বিবির পরিবার। অভিযোগ, তাঁদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ জুন তাঁদের গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ । শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয় বলেও জানান সুইটি। সেই সন্দেহের বশে ২৬ জুন অসমের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ‘পুশব্যাক’ করে ছ’জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
সেই সময় সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন ৷ বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে ও মামলা রুজু করে। ১০০ দিনেরও বেশি সময় তাঁরা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। সেই মামলা গড়ায় ভারতের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে দিল্লি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হবে।