
মালদহ: রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে গাড়ির ঋণের কিস্তি না মেটানোর অভিযোগ উঠল এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নেতার বাড়ি থেকে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গেল একটি বেসরকারি রিকভারি এজেন্সি। রবিবার দুপুরে মালদার চাঁচলের আজাদপল্লি এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত নেতার নাম সামিউল ইসলাম।
সামিউল মালদহ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য এবং বর্তমানে ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। রিকভারি সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে একটি ব্যাঙ্ক থেকে ৫ লক্ষ টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে গাড়িটি কিনেছিলেন সামিউল। কিন্তু প্রথম দিকে মাত্র ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর, ২০১৮ সাল থেকে আচমকাই ঋণের কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেন তিনি। ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, আসল বকেয়া ছিল প্রায় ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে টাকা না মেটানোয় বর্তমান সুদ-সহ মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।
রিকভারি এজেন্সির কর্মী দেবাশিস চক্রবর্তী জানান, বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ওই তৃণমূল নেতাকে একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোনও নোটিসেরই জবাব দেননি। অবশেষে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার চাঁচল থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর আজাদপল্লির বাড়িতে চড়াও হন এজেন্সির প্রতিনিধিরা এবং গাড়িটি সিজ (বাজেয়াপ্ত) করে নিয়ে যান। একজন শাসক দলের নেতার বাড়ি থেকে এভাবে ঋণখেলাপির দায়ে গাড়ি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত সামিউল ইসলামের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।