
নদিয়া: একটি ঘরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে নাবালিকার দেহ। পাশের একটি ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার তার পিশেমশাইয়ের দেহ। ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ল নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে। মৃত ব্যক্তির নাম সন্তু সর্দার (৫৪), মৃত নাবালিকার নাম সুমনা সর্দার (১১)। ওই নাবালিকাকে খুন করে পিশেমশাই আত্মঘাতী হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ।
কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়া কুঠিরপাড়া এলাকায় বাড়ি সন্তু সর্দারের। তিনি পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে বাইরে কাজ করতেন। গত একমাস আগে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর মেয়ের বিয়ের পর স্ত্রী না থাকায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। বর্তমানে তিনি একা থাকায় ওই নাবালিকাকে তাঁর কাছে রাখতেন। এদিন দুটি ঘর থেকে দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
জানা গিয়েছে, সুমনা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। প্রতিদিনের মতো গতকালও সে পিশেমশাইয়ের বাড়িতেই ছিল। এদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা সন্তু সর্দারকে তাঁর ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু, সুমনাকে কোথাও দেখা যায়নি। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজার পরও পাওয়া যায়নি নাবালিকাকে। পাশের একটি ঘর বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। সুমনার কোনও খোঁজ না পেয়ে প্রতিবেশীরা তালা ভেঙে ওই ঘরে প্রবেশ করলে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায় সুমনার নিথর দেহ।
ঘটনার খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই পরিবারের দুই সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের লোকজন বুঝতে পারছেন না কীভাবে এমন হল। নাবালিকার গলায় দাগ পাওয়া গিয়েছে। তাকে গলা টিপে খুন করে সন্তু সর্দার আত্মঘাতী হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।