
কৃষ্ণনগর: এবার তৃণমূলের (TMC) প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণ গাড়ি করে পাচারের অভিযোগ। হাতেনাতে ধরলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিজেপির লোকজন। প্রাক্তন মন্ত্রীকে রাস্তা নামিয়ে এনে মুখে চড়-থাপ্পর। পরপর ছোড়া হল ডিম। পরে, প্রাক্তন মন্ত্রী অনুগামীকেও হেনস্থা। সাদা থান পরানোর চেষ্টা। চরম উত্তেজনা নদিয়ার কৃষ্ণনগরে (Krishnanagar)।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?
কৃষ্ণনগর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন প্রতিবাদীরা। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচাতে অবশেষে প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এখানে উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরেই বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে সরকারি ত্রাণ অবৈধভাবে মজুত করে রাখতে। কয়েকদিন আগে নদিয়ার নবদ্বীপ পৌরসভার চেয়ারম্যান বিমান কৃষ্ণ সাহাকে একই অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের ফ্ল্যাট সংলগ্ন একটি ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণে দান সামগ্রী উদ্ধার হয়। চার দিন কয়েক কাটতে না কাটতেই এবার কৃষ্ণনগরে রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণ অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগ তোলে বিজেপি। এরপরই শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। উত্তেজনা এতটাই ছড়িয়ে পড়ে অবশেষে উজ্জ্বল বিশ্বাস সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, একটি বড় গাড়ি দাঁড় করিয়ে সরকারি ত্রাণ পাচারের চেষ্টা করছিল প্রাক্তন মন্ত্রী। আর সেটাই নজরে আসতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তখনই বিপত্তি শুরু হয়। স্থানীয় এবং বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ অবৈধভাবে বিভিন্ন বছর ধরে এই প্রাণগুলি রেখেদিয়েছিল মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। পরবর্তীকালে অন্যত্র অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার একটা চক্রান্ত চলাচ্ছিলেন তাঁরা।
যদিও অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “বছরে দুর্গাপুজোর সময় এবং ইদের সময় দুইবার এই সরকারি ত্রাণগুলো আমাদের কাছে আসে। তবে দূর্গা পূজার যে ত্রাণ সেগুলো আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করে দিয়েছি। যেহেতু ভোটের মধ্যে ইদ ছিল আর সেই ত্রাণ গুলো বিলি করা সম্ভব হয়নি। আমি পরবর্তীকালে জেলাশাসক এবং ভিডিওর সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ গুলি প্রশাসনের দফতরে পাঠানোর চেষ্টা করছিলাম।” তিনি এও বলেন, বিজেপি যে অভিযোগ তুলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।