
কৃষ্ণনগর: তাঁর একটি কবিতাকে ঘিরে বিতর্ক। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ। শেষপর্যন্ত ত্রিশূলের মাথায় কন্ডোম মামলায় শনিবার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির হয়ে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা ও কৃষ্ণনগর আদালত চত্বর ছাড়া অন্য কোথাও যেতে পারবেন না তিনি।
বেশ কয়েকবছর আগে শ্রীজাতর ওই কবিতা ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ ২০১৯ সালে কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন রমিত শীল নামে এক আইনজীবী। কবি শ্রীজাতকে একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও আদালতে তিনি হাজির হননি। অবশেষে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
এদিন শ্রীজাত সশরীরে হাজিরা হয়ে আত্মসমর্পণ করে কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে জামিন নিতে আসেন শ্রীজাত। কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজির হলে আদালত কবিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে। কলকাতা (যেখানে কবির বাড়ি) এবং কৃষ্ণনগর আদালত চত্বর ছাড়া তিনি কোথাও বেরোতে পারবেন না বলে নির্দেশ দেন বিচারক। এবং ২ হাজার টাকার রেজিস্টার বন্ড সহ তাঁর জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
এ বিষয়ে অভিযোগকারীর আইনজীবী বিশ্বদীপ টামটা জানান, ২০১৯ সালে শ্রীজাত তাঁর কবিতায় যে মন্তব্য করেছিলেন, তাতে একটি ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। একটি ধর্মের আরাধ্য দেবতার যে অস্ত্র তাকে নিয়ে এই কুরুচিকর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীজাতকে সমন পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা দিচ্ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। অভিযোগকারীর আইনজীবী এও জানান, “আমরা তাঁর কঠোর শাস্তি দাবি জানিয়েছি আদালতে। আশা করি আমরা এই সুবিচার পাব।”
প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের মাঝে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিয়ে হইচই শুরু হয়েছিল। এদিন আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি শ্রীজাত। গাড়িতে চেপে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে আদালত চত্বরে অনেককে শ্রীজাতর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।