
বনগাঁ: বয়স ১০০ ছুঁইছুঁই। হাতে লাঠি। বয়সের ভারে ঝুঁকেছে কোমর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমজোর হয়েছে কান, চোখ। কিন্তু, ৮০ বছর আগে স্বাধীনতার স্মৃতি এতটুকু ফিকে হয়নি। ১৪ অগস্টের সেই রাত, দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের পর সেই স্বাধীনতার স্বাদ, সেই অনুভূতি আজও ভোলেননি কেনারাম ঘোষ (Kenaram Ghosh)। আজ ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) কাঁধে ভারতের পতাকা নিয়ে স্মৃতির সরণীতে হাঁটলেন তিনি। টিভি৯ বাংলার সঙ্গে ভাগ করে নিলেন স্বাধীন হওয়ার সেই দিনের গল্প।
বনগাঁ চালতেপোতার বাসিন্দা কেনারাম ঘোষ। ৯৯ বছর ৯ মাস। অর্থাৎ ১০০ বছর থেকে তিন মাস কম। স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত না থাকলেও, পরোক্ষভাবে দেশসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বিপ্লবীদের বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দেওয়া বা তাঁদের সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে কেনারাম ঘোষ সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
টিভি৯ বাংলার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ১৫ অগস্ট সকালের একটি স্মৃতি ভাগ করে নেন তিনি। জানান, ১৯৪৭ সালে অগস্ট মাসে গোবরডাঙ্গায় ছিলেন। হঠাৎ জানতে পারেন দেশে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন মাউন্টব্যাটেন। এতবছর যে ব্রিটিশদের অধীনে থাকতে হয়েছিল, সেই ব্রিটিশদের চলে যাওয়া প্রত্যক্ষ করতে গোবরডাঙা থেকে কলকাতা ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ” খবর পেয়ে সকাল সকাল ট্রেনে করে তিন-চারজন কলকাতা গেলাম। কিন্তু, গেট বন্ধ থাকার কারণে দেখতে পাইনি।” কিন্তু, সেদিন কেনারামের মনে স্বাধীনতার শান্তি ছিল। একইসঙ্গে তিনি জানান, কীভাবে শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লড়াই করেছেন, কীভাবে লড়াই করে বনগাঁকে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হতে দেননি।
কেনারাম ঘোষ জানান, ১৯৪৪ সালে জিন্নার মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে মিটিং করেছিলেন, সেই মিটিংয়েও ছিলেন তিনি।সেই মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার পরই আশ্বস্ত হোন পাকিস্তানে তাঁদের যেতে হবে না। স্বাধীনতার ৮০তম দিবসে এসে তিনি এটাই চান, দেশ যেন সঠিকভাবে চলে।
কেনারাম ঘোষের নাতি প্রভাত ঘোষ জানাচ্ছেন, দাদুর কাছ থেকে ১৯৪৭ সালের অনেক গল্প শুনেছেন। তিনি বলেন, “দাদুর কাছে শুনেছি, যখন জিন্না এখানে এসছিলেন তখন দেশ স্বাধীন হয়নি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বনগাঁতে এসছিলেন। বলেছিলেন, তোমরা এখানে থাক, তোমাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছি।”