
উত্তর ২৪ পরগনা: এত টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তবে কেন? রাস্তায় নামলেন টোট চালকরা।যশোর রোড এবং ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ। টোটো চলাচলের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বারাসতে। রবীন্দ্রভবনে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন টোটো চালকেরা। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবীন্দ্রভবন চত্বরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তারা।
টোটো চালকদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আরটিও (RTO) থেকে ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে রেজিস্ট্রেশন করানোর পরেও কেন তাদের মূল সড়কে উঠতে দেওয়া হবে না? ইদানীং জাতীয় সড়কে ওঠার অপরাধে পুলিশ বেশ কয়েকটি টোটো আটক করেছে বলেও তাঁদের দাবি। চালকদের হুঁশিয়ারি, রুজি-রুটির এই সংকট না মিটলে আগামী দিনে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল টোটোই নয়, বৈধ পারমিট ছাড়া কোনও অটোকেও মেন রোডে চলতে দেওয়া হবে না।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, টোটো চালকদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য এবং এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বড় আন্দোলনে নামবেন। ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের এক নেতা বলেন, “আমরা দেখছি, গত কয়েকদিনের মধ্যে প্রচুর অটো ও টোটোকে তুলে নিয়ে চলে গিয়েছে। একটা ইন্টিমেশন তো দেবে। নোটিফিকেশন রয়েছে। ১৫ বছরের পুরনো টোটো, যাদের পারমিট নেই, সেই সব টোটো তুলে নেওয়া হবে বলে জানাচ্ছে। এটা এভাবে করা যাবে না। আগে বাজেয়াপ্ত করা টোটোগুলো ছেড়ে দিতে হবে, নাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”
এক টোটোচালক বলেন, “২০১৮ সালে আমাদের গাড়িতে নম্বর দিল কেন? আমার গাড়ি যদি রাস্তায় না চলতে পারে, নতুন করে ইনস্যুরেন্স কেন দেব? ট্যাক্স কেন দেব? আগের সরকার নম্বর দিয়েছে। এক-এক জনকে ৩৮-৪০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। আমাদের তো এখন ঠিকঠাক কাজই করতে দিচ্ছে না।”