
গাইঘাটা: কেটে গিয়েছে ১৪ বছর। এবার সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় বাবা জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাসের সাক্ষ্য গ্রহণ হল। সোমবার বনগাঁ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ১-র অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে সাক্ষ্য দেন বরুণের পিতা। বয়সের ভারে এখন ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। সেই অবস্থায় এদিন সাক্ষ্য দিতে আসেন তিনি। প্রথমবারের জন্য আদালতে বরুণ বিশ্বাস খুনে ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম জানিয়েছেন বরুণের বাবা।
উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস ২০১২ সালের ৫ জুলাই খুন হন। বরুণ বিশ্বাসের দাদার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। এই মামলায় ৭৬ জন সাক্ষী। তার মধ্যে ৩৭ নম্বর সাক্ষ্য আগে গ্রহণ করা হয়েছিল। সোমবার ৩৮ নম্বর সাক্ষী হিসেবে বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এই মামলায় ৮ জন গ্রেফতার হয়েছিল। একজন জুভেনাইল কোটে সাজা পেয়েছেন। একজন মারা গিয়েছেন। এখন ৬ জন বিচারাধীন।
সম্প্রতি বরুণ বিশ্বাসের পরিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন। নতুন করে সরকারি বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে মামলায়। এই অবস্থায় এদিন বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হল। বিচারক নিজে বরুণ বিশ্বাসের বাবার সামনাসামনি বসে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
কী বললেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী?
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিশেষ সরকারি আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “বরুণ বিশ্বাসের বাবা আজ বিচারকের কাছে বলেছেন, তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ষড়যন্ত্র করে বরুণ বিশ্বাসকে খুন করিয়েছেন। কয়েকজন তাঁকে এই কথা বলেছে। খুনে যুক্ত সকলকে বিচারের মধ্যে এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক বলে আবেদন করেছেন বরুণের বাবা।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় যে গুলি চালিয়েছিল, তার জুভেনাইল আদালতে বিচার হয়েছে। সাজা হয়েছে। অন্য যারা ষড়যন্ত্রকারী ছিল তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আশাবাদী, দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি হবে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী নির্মাল্য সাহা জানিয়েছেন, “বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আমরা সহযোগিতা করেছি। উনি আজ সাক্ষী দিলেন। আদালতে প্রথমবারের জন্য একজন প্রভাবশালী প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম বলেছেন। এর আগে কখনও পুলিশ বা সিআইডির কাছে বলেননি। আমরাও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাস রাখছি।”
বরুণ বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস জানিয়েছেন, “আমরা চেয়েছিলাম বাবার সাক্ষ্য নেওয়া হোক। বাবার ৯২ বছর বয়স। আজ তার সাক্ষ্য নেওয়া হল। বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে, আমরা সঠিক বিচার পাব।”