
বসিরহাট: রাতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানেই প্রতিবেশীর গুলিতে মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের। মৃত যুবকের নাম প্রশান্ত শীল (২২)। সূর্য শীল নামে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কী কারণে সূর্য শীল প্রশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেন, তা বুঝতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
বসিরহাট থানার গোডাউন পাড়ায় বাড়ি প্রশান্ত ও সূর্যের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গতকাল রাতে আড্ডা দিচ্ছিলেন প্রশান্ত, সূর্যরা। তাঁরা সম্পর্কে তুতো ভাই। সেই আড্ডার সময়ই আচমকা সূর্য গুলি চালান বলে অভিযোগ। তৎক্ষণাৎ প্রশান্তকে এলাকার মানুষ বসিরহাট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশান্ত ও সূর্যের মধ্যে কোনও শত্রুতা ছিল না। সূর্যও এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। বছর ছাব্বিশের সূর্য কখনও রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ, কখনও অন্য কোনও কাজ করতেন। আর প্রশান্ত বাবার ঢালাইয়ের মেশিন রয়েছে। সেখানেই বাবাকে সাহায্য করতেন। গতকাল রাতে নিছক আড্ডার ছলে সূর্য গুলি চালিয়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য। এই খুনের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয় নেই বলে মৃতের পরিবারের দাবি। এর সঙ্গে রাজনীতিরও কোনও যোগ নেই বলে তাদের বক্তব্য। তবে সূর্য পিস্তল কোথা থেকে পেলেন, তা বুঝতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিন বসিরহাট মহকুমা হাসপাতালে পুলিশ মর্গে প্রশান্ত শীলের দেহ ময়নাতদন্তের পর তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রশান্তের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সূর্যকে গ্রেফতার করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে তারা দেখছে।
ঘটনাটি নিয়ে বসিরহাট দক্ষিণের ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকেই ঘটনাটি জানতে পেরেছি। প্রশাসনের তরফে তো আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রশাসন তার নিজের কাজ করবে।” এইসব ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের যোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “ওই এলাকায় এখন তৃণমূল আছে নাকি? তবে সবাই মিলে এই ধরনের ঘটনা বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে।”