
কলকাতা: অস্ত্র পাচারে তাঁর মায়ের নাম নতুন নয়। এর আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন তাঁর মা। সেই সময়েও তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে হয়েছিল। কিন্তু এবার আর মাকে ছাড়াতে যাবেন না তাঁর মেয়ে। এবার মুখ খুললেন বছর পঞ্চান্নর অস্ত্র ব্যবসায়ী পূজা বিশ্বাসের মেয়ে। অস্ত্র সমেত মা গ্রেফতার হতেই পূজার মেয়ে বললেন, “আমার মায়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক নেই। আমার মা অন্য একজনের সঙ্গে থাকত। তার সঙ্গে থেকেই যা করার করেছে। দশ বারো বছর ধরেই ওই লোকটার সঙ্গে সম্পর্ক, তার সঙ্গে থাকত। আগেও আমরা জানতাম, এই জিনিস নিয়ে অঘটন ঘটবে।”
পূজা প্রথম পক্ষের মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় পক্ষে কোনও সন্তান নেই। পূজার মেয়ে তাঁর নিজের স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু মায়ের এহেন ‘রেকর্ড’ তাঁকে তাড়া করে ফেরে। শ্বশুরবাড়িতেই মুখ ঢেকে তিনি বলেন, “আগেও আমরা বারণ করেছিলাম। আমি নিজে যথেষ্ট বারণ করেছিলাম। তারপর যে এরকম করবে আইডিয়া ছিল না। আমি আগে নিজে থেকে দাঁড়িয়ে আমার মাকে শাস্তি দিয়েছি। পরে আমারই বেল করাতে হয়েছে। এবার আর আমি বেল করতে যাব না। আমি তখনই বলেছিলাম, আবার যদি এরকম কোনও স্ক্যান্ডল হয়, আমি ভুলে যাব আমার মা বেঁচে আছে।”
২০০ রাউন্ড কার্তুজ, ৬টি স্টার লোগোর সেভেন এমএম পিস্তল ও নগদ টাকা -সহ অশোকনগরের ৮ নম্বর এলাকায় পূজা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে সিআইডি। অস্ত্র ব্যবসায়ে পূজা পুরনো খিলাড়ি। এর আগেও ২০২৩ সালে পূজা বিশ্বাস দত্তপুকুর থানার বাসের মধ্যে থেকে ধরা পড়েন। সে সময়েও তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছিল। গ্রেফতারির পর জেলও খাটেন। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সেই একই কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন।
পূজা তাঁর বর্তমান স্বামী নীলরতনের নির্দেশে অস্ত্র নিয়ে আসতেন। তিনি গোপালনগর থানার কোনও এক চত্বরে থাকেন। তিনি কাপড়ের ব্যবসা চালান। অভিযোগ, কাপড়ের ব্যবসার আড়ালেই তিনি অস্ত্র কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরও খোঁজ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
মা গ্রেফতার হয়েছে জানতে পেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মেয়ে। আবারও সেই একই অভিযোগে গ্রেফতার। কিন্তু এবার আর মায়ের মুখও দেখতে চান না তিনি।