Subrata Thakur: ঠাকুরবাড়িতে ফাটল! মমতাবালা-শান্তনুর পর একই বাড়িতে ‘তৃতীয় শক্তি’ তৈরির পথে সুব্রত

Matua Thakurbari Faction: ঠাকুরবাড়িতে রাজনৈতিক বিভাজন আজকের নয়। বর্তমানে মতুয়া মহাসঙ্ঘের দু'টি সমান্তরাল সংগঠন রয়েছে। একটির সঙ্ঘাধিপতি তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। অন্যটির সঙ্ঘাধিপতি বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এই শিবিরেই মহাসঙ্ঘাধিপতি হিসাবে রয়েছেন সুব্রত। তবে পদ শীর্ষ স্থানীয় হলেও দিনশেষে শান্তনুর নেওয়া সিদ্ধান্তই হয় চূড়ান্ত, মত একাংশের।

Subrata Thakur: ঠাকুরবাড়িতে ফাটল! মমতাবালা-শান্তনুর পর একই বাড়িতে তৃতীয় শক্তি তৈরির পথে সুব্রত
মমতাবালা ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর, শান্তনু ঠাকুর (বাঁদিক থেকে)Image Credit source: নিজস্ব চিত্র

| Edited By: Avra Chattopadhyay

Nov 02, 2025 | 2:02 AM

উত্তর ২৪ পরগনা: ঠাকুরনগরে ‘তৃতীয় সূত্র’। শুধু শান্তনু এবং মমতাবালা ঠাকুরই নন, নিজের অস্তিত্ব জিইয়ে রাখতে ভাই ও জেঠিমার পথেই হাঁটছেন গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের’ মধ্যেই তৃতীয় সমান্তরাল সংগঠন তৈরির কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ এখন কেন এই বার্তা? দ্বন্দ্ব নাকি অন্য কোনও কারণ? নেই তো রাজনৈতিক সমীকরণ? বছর ঘুরলেই বাংলায় ভোট, আর তাতে মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, তা সন্দেহাতীত। এই আবহেই বাংলার মতুয়াদের সদর দফতর ঠাকুরনগরে যেন তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ।

এদিন গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, একই নাম, একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শুধু নেতৃত্বটা থাকবে আলাদা। নতুন সংগঠনের মাথায় বসবেন সুব্রত। তাঁর কথায়, ‘আগামী ৪ তারিখ অর্থাৎ মঙ্গলবার এই নতুন সংগঠনের ঘোষণা করা হবে। তবে ঠিক কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলাম, তা এখনই প্রকাশ্য়ে আনব না। সেই দিনই সব বলা হবে।’

সুব্রতর নতুন সংগঠন তৈরির নেপথ্যে ‘বঞ্চনাকেই’ উস্কে দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তাঁর কথায়, ‘ওটা ওঁদের পরিবারের ব্যাপার। তবে বড় ছেলে চিরকালই বঞ্জিত থেকেছে। সংগঠন নিয়ে আমি কিছু বলব না। আমার শুধু একটাই বক্তব্য বড় ছেলে হিসাবে সুব্রত ঠাকুরের এই বাড়িতে অধিকার পাওয়া উচিত।’ সুব্রতর এই ঘোষণার পর কেউ কেউ বলছেন, মতুয়া সংগঠন তৈরি হয়েছিল বৈষম্য দূরীকরণে। সেই সংগঠনেই আজ আরও একটা ফাটল। অবশ্য মমতাবালা ঠাকুরের মতে, ‘সংসার বড় হলে এমন হবেই। পাঁচটা ভাই থাকলে পাঁচটা ভাগ হবে। এই লড়াই আজকের নয়। তবে আমি মনে করি, মানুষ সঠিক মতুয়া সংগঠনকে বেছে নেবেন।’

এই প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা সুব্রত ঠাকুরের ভাই শান্তনু ঠাকুরকেও। কিন্তু আপাতত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি। প্রসঙ্গত, ঠাকুরবাড়িতে রাজনৈতিক বিভাজন আজকের নয়। বর্তমানে মতুয়া মহাসঙ্ঘের দু’টি সমান্তরাল সংগঠন রয়েছে। একটির সঙ্ঘাধিপতি তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। অন্যটির সঙ্ঘাধিপতি বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এই শিবিরেই মহাসঙ্ঘাধিপতি হিসাবে রয়েছেন সুব্রত। তবে পদ শীর্ষ স্থানীয় হলেও দিনশেষে শান্তনুর নেওয়া সিদ্ধান্তই হয় চূড়ান্ত, মত একাংশের। শুধু তাই নয়, এই দুই ভাইয়ের বিবাদ প্রকাশ্যেও এসেছে বহুবার। তবে কি সেই বিবাদই টেনে আনল নতুন সংগঠনের ভাবনা?

Follow Us