
উত্তর ২৪ পরগনা: ভরা বাজার। ব্যবসায়ীরা যে যাঁর মতো পসরা সাজিয়ে বসেছেন। থলে হাতে বাজারে আসেন বয়স্ক এক মহিলা। এক দোকানে ঢুকে বললেন, বড় সাইজের ইলিশ মাছ লাগবে তাঁর। সে দোকানে তো বিকোচ্ছে ছোট পুটি, ট্যাংরা-পারসে। পাশের দোকানের এক ব্যবসায়ী বললেন, তাঁর কাছে বড় সাইজের ইলিশ রয়েছে। বরফ থেকে ভেঙে তিনি ‘মাসিমা’র জন্য দেড় কিলো সাইজের ইলিশ নিয়ে আসেন। দাম ৩৭০০টাকা।
‘মাসিমা’ তখন বলেন, মাছটা তিনি নেবেন। কিন্তু এখনই তাঁর কাছে টাকা নেই। টাকা আনতে যাচ্ছেন। বাইরে রিক্সা দাঁড় করানো। এক ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে যান। সত্যিই বাজারের বাইরে রিক্সা দাঁড়ানো। সেই রিক্সাতেও উঠে পড়েন বয়স্ক মহিলা। ওই ব্যবসায়ীকেও পাশে বসান। বলেন, সামনেই তাঁর দোকান। সেখান থেকে টাকা আনবেন। ব্যবসায়ীও সঙ্গে সঙ্গে যান। বৃষ্টি ভেজা দুপুরের এরপরের ঘটনা চমকে দেবে আপনাকে। মধ্যমগ্রামের বাজার থেকে যে অভিনব উপায়ে মাছ চুরি হল, তা ভাবাবে আপনাকেও।
হ্যাঁ যা বলছিলাম। বয়স্ক মহিলা তো সেই ব্যবসায়ীকে নিয়ে একেবারে রিকসা ওঠেন। বলেন, সামনেই তাঁর দোকান। সেখান থেকে টাকা নিয়ে তিনি দেবেন। যে রিকসায় তিনি ওঠেন, তাঁর চালকও বয়স্ক। ওই মহিলা তাঁর সঙ্গে এমনভাবেই কথা বলতে থাকেন, যেন তাঁকে অনেক দিন ধরেই চেনেন। পরে জানা যায়, আদৌ কিন্তু তা নয়। মধ্যমগ্রামের একটি কাঠগোলার সামনে এসে রিকসা দাঁড় করাতে বলেন ওই মহিলা। তিনি নেমে যান। তাঁকে নামতে দেখে ব্যবসায়ীও রিকসা থেকে নামেন, ভাবেন সেখানেই তাঁর দোকান। টাকা নিয়ে তিনি বেরিয়ে যাবেন। কিন্তু না, ওই কাঠগোলার সামনেও মহিলার দোকান নয়। মহিলা বলেন, তাঁর জামাকাপড়ের দোকানটা আরও ভিতরে। তিনি ফোনে বলে দিচ্ছেন। ফোনও করেন। আর ব্যবসায়ীকে বলেন, তিনি যেন রিকসা গিয়ে ওই জামাকাপড়ের দোকান থেকে ৪২০০ টাকা নিয়ে নেন। ৪০০০ টাকা মাছের, আর ২০০ টাকা রিক্সাচালককে দিয়ে দেন!
দোকানদার রিকসায় চেপে যান সেই দোকানে। জামাকাপড়ের দোকান তো সেই জায়গায় ছিল বটে, কিন্তু আদৌ সেটা মহিলার নয়। তখনই ব্যবসায়ী বুঝতে পারেন গোল খেয়ে গিয়েছেন। রিক্সা নিয়েই আবার সেই কাঠগোলার সামনে। কিন্তু কোথায় মহিলা! তিনি ততক্ষণে ধাঁ! মাছও গেল, আর মাছ নিয়ে রিকসায় বাড়ি যাওয়ার ৩০০ টাকাও নিয়ে গেলেন মহিলা! আলাদাই পর্যায়ের চুরি!
ব্যবসায়ী বলছেন, “দেখুন দোকানদারি করতে গেলে বিশ্বাস তো করতেই হয়। বাজারে এরকম হয়। কিন্তু এত বড় চিট কখনও কেউ করেনি। আর টাকা আনতে তো ভাইকে পাঠিয়েছিলাম।” ওই মহিলাকে আগে কখনও দেখেননি ব্যবসায়ীরা।